চনপাড়ায় আবার গোলাগুলি

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৫:২৮ এএম

মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় দুপক্ষে আবারও গোলাগুলি হয়েছে। এ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৪ জন আহত হন। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়, চলে ঘণ্টাখানেক।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দিনমজুর সৈয়দ মিয়ার (৫৫) অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল হাসেমের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার মাদক কারবার থেকে শুরু করে নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বজলু। বজলু মারা যাওয়ার পর থেকে এসব কারবার ও অপরাধ জগতের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কায়েতপাড়া ইউপির সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার রিতা গ্রুপ, জয়নাল, ইয়াছমিন, রায়হান, শাওন, রবিন, শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপ। আর চনপাড়ার মাদকের কারবারসহ অপরাধকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে এসব গ্রুপ আলাদাভাবে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, এসব বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। শুধু জয়নালের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ নানা অপরাধের ২৮টি মামলা রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে চায় না।

তারা আরও জানান, গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে হঠাৎ করে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসীরা লাইফ জ্যাকেট, হেলমেট পড়ে পিস্তল ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী ছোটাছুটি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়িতে তালা মেরে দেন এলাকাবাসী। এ সময় উভয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। সংঘর্ষে এলাকাবাসী পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৪ জন আহত হন। এ সময় সৈয়দ মিয়া নামে এক দিনমজুর গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুলিবিদ্ধ সৈয়দের পরিবারের অভিযোগ, জয়নাল গ্রুপের রাব্বি নামে এক সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে পিস্তল দিয়ে গুলি করে সৈয়দকে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বলেন, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় বর্তমানে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ করছে ইয়াসমিন ও তার মা রহিমুন। ইয়াসমিনকে শেল্টার দিচ্ছেন জয়নালসহ তার গ্রুপের সদস্যরা। আর ইয়াসমিনের মা রহিমুনকে শেল্টার দিচ্ছেন শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপ। শমসের ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপকে শেল্টার দিচ্ছেন কায়েতপাড়া ইউপির সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার রিতা। মাদক কারবারি রায়হান ও শাওন গ্রুপকে শেল্টার দিচ্ছে শাওন গ্রুপ। আর এসব গ্রুপের প্রধানরা তাদের বাহিনীর সদস্যদের হাতে নানা ধরনের অস্ত্র দিয়ে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ারসহ নানান মাদকদ্রব্য বিক্রি করাচ্ছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেই হামলা-মামলা হত্যাসহ নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এর আগে, গত ১২ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে এসব গ্রুপে গুলিবিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন গুলিবিদ্ধ হন চারজন। এ ছাড়া ওই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত