বোয়িংয়ের সংবাদ সম্মেলন

নতুন এয়ারবাস কিনলে লোকসানে পড়বে বিমান

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৫:৩০ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি এয়ারবাস ব্র্যান্ডের এয়ারক্রাফট কেনার ঘোষণার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়েছে বোয়িংয়ের ঊর্ধ্বতনরা। গতকাল বুধবার দেশের এয়ারলাইনগুলোর প্রতিনিধি, অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাভিয়েশন সেক্টরের নানা দিক তুলে ধরেছেন তারা। এই সময় বোয়িং বোঝানোর চেষ্টা করে যদি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের বহরে এয়ারবাস কিনে তাহলে খরচ অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তারা লোকসানের মুখে পড়বে।

বোয়িংয়ের এশিয়া প্যাসিফিক ও ভারতের বোয়িং কমার্শিয়াল মার্কেটিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেভ শাল্টে বলেন, বিমান যদি বর্তমানে নতুন কোনো ব্র্যান্ডের (এয়ারবাস) এয়ারক্রাফট কিনে তাহলে তাদের খরচ অনেকাংশে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বর্তমানে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের আধিক্য থাকায় বিমানের একটি টেকনিক্যাল ও পাইলট টিম রয়েছে। বিমান যদি নতুন ব্র্যান্ডের এয়ারক্রাফট নেয় সে ক্ষেত্রে তাদের দুই সেট টেকনিক্যাল টিম, দুই সেট পাইলট, দুই সেট ট্রেনিং টিম, দুই সেট সিমুলেটর লাগবে। তিনি বলেন, বিমানের বহরে যদি ১০টি বোয়িং ৭৮৭ থাকে তাহলে যত টাকা খরচ হবে, বিমানের বহরে ৫টি বোয়িং ৭৮৭ এবং ৫টি এয়ারবাস এ-৩৫০ থাকে তাহলে খরচ আকাশচুম্বী হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি টাকায় বিমানের ৬৪০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

বোয়িং নাকি এয়ারবাস? কোনটি সেরা এয়ারক্রাফট? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই বোয়িং বিশ্বসেরা এয়ারলাইনস। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা দারুণ সুযোগ দেখতে পাচ্ছি, যেখানে বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতের বিমানবহরের ৮০ শতাংশেরও বেশি প্রয়োজন হবে। আর বাকি ২০ শতাংশে ব্যবহৃত হবে পুরনো অকার্যকর বিমান প্রতিস্থাপনের জন্য।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস কেনার ঘোষণার পরই কেন বোয়িং বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলন করল? তারা কি বাংলাদেশের মার্কেট হারাচ্ছে বলে মনে করছে? এই বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়িংয়ের নর্থ ইস্ট এশিয়া কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেন বিভাগের রিজিয়নাল ডিরেক্টর (কমিউনিকেশন) কেভিন ইও বলেন, বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টর অপার সম্ভাবনায় একটি সেক্টর। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে কাজ করছি। এ ছাড়াও আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের ক্যাটাগরি আপগ্রেডেশনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এই সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ করতেই বোয়িং আজ সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছে।

তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী যাত্রী ভ্রমণ এবং এয়ার কার্গোর জোরালো চাহিদা মেটাতে, দক্ষিণ এশিয়ার বাহক বা ক্যারিয়রদের আগামী ২০ বছরে ২০০০টির বেশি নতুন বাণিজ্যিক বিমানের প্রয়োজন হবে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ইন-সার্ভিস বিমানবহরের (৭০০টি) তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোর্ড সভায় ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাভিয়েশন খাতের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছে যুক্ত রাজ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত