সিপিডির ডায়লগ

জি-৭-এর প্রতিশ্রুত অর্থ পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ০৫:৩১ এএম

বিশে্ব কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য জলবায়ুতে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের খুব সামান্যই দেওয়া হয়েছে। ফলে উন্নয়নশীল এসব দেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলা হুমকিতেই থেকে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ‘জি-৭ সামিট- কল ফর গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস ফর এনডিং সাপোর্ট ফর ফসিল ফুয়েলস অ্যান্ড এক্সিলারেট দ্য ট্রানজিশন টু রিনিউয়েবল এনার্জি’ শীর্ষক ডায়লগে এসব কথা বলা হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। উন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭ এর এবারের সামিট জাপানে। শুরু হচ্ছে ১৯ মে, চলবে ২১ পর্যন্ত।

সিপিডি বলছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২০ বিলিয়ন ও ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০ বিলিয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল জি- রাষ্ট্রগুলোর। বৈশি্বক মূল্যস্ফীতি ও জলবায়ু সংকটে এখন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর চাহিদা ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম তার প্রবন্ধে বলেন, এই সামিটকে কেন্দ্র করে এসব দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষ হচ্ছে। তারা জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন। সংকট মোকাবিলায় এখনই উদ্যোগ নেওয়া দরকার। ন্যাশনালি ডিটারমাইন কনট্রিবিউশন (এনডিসি) যে প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল তা থেকে সরে যাচ্ছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নে এখন সবাই গুরুত্ব দিচ্ছে। কয়লা থেকে বেরিয়ে আসতে উন্নত দেশগুলো আরও সময় চাইছে। প্রযুক্তির দিক থেকে জি-৭ দেশগুলো আরও উন্নত প্রযুক্তি হাতে নিয়েছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে পারছে না। অথচ এসব দেশের চাহিদা এখন ট্রিলিয়ন ডলারে যাচ্ছে।

ড. মোয়াজ্জেম আরও বলেন, সংকট মোকাবিলায় এখন বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সমস্যা হলো দেশের ব্যাংকগুলো এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগে তাদের বাধাগুলো সামনে আনছে। জ¦ালানি দক্ষতায় এখন প্রচুর বিনিয়োগ দরকার।

ড. ফাহমিদা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, জি-৭ সামিটের বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। যেমন-গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে আনা, নবায়নযোগ্য জ¦ালানিতে রূপান্তর ঘটানো। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কীভাবে এসব কমানো হবে তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। এ সামিটে উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পায়।

সিপিডির প্রবন্ধে বলা হয়, জি-৭ সামিট থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ সাধারণত জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বড় অঙ্কের অর্থায়নসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তা আশা করে। এসব উন্নত দেশগুলোর উচিত জীবাশ্ম জ¦ালানি ও এলএনজিতে বিনিয়োগ বন্ধ করা। এলএনজিও কার্বনভিত্তিক জ¦ালানি হওয়ায় এর বিনিয়োগ বন্ধ হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউট (আইএফআই) থেকে আরও বেশি অর্থায়ন আনা। কপ-২৬ এ গঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, আইএমএফের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ট্রাস্ট ও ক্লাইমেট ফাইন্যান্স টাস্কফোর্স থেকে অর্থায়ন আনা জরুরি।

স্রেডার এনার্জি এফিশিয়েন্সি ও কনজারভেশনের পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার জি-৭ সামিটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব রাখবে। জ্বালানি দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা তারা কীভাবে দেবে তার ওপরও আলোচনা হতে পারে।

সংসদ সদস্য তানভির শাকিল বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যাতে মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাহত না হয় সেদিকেও নজর রাখছি আমরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত