গাজীপুরের সালনায় করোনাকালে রাবেয়া আক্তারের মা তার তিন মেয়েকে আরবি শেখানোর জন্য সাইদুল ইসলাম নামে গৃহশিক্ষক রাখেন। এই সময় রাবেয়া আক্তারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এবং মৌখিকভাবে বিবাহ করে সাইদুল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টিকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। পরিবার বিষয়টি মেনে না নিলে কলেজছাত্রী রাবেয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে সাইদুল।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এর আগে বুধবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা র্যাব-১ এর একটি দল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০২০ সালে পরিবারকে আরবি পড়ানোর জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে রাবেয়ার বাবা সাইদুলকে নিয়োগ দেন। এতে পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে রাবেয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সাইদুল। ৫ থেকে ৬ মাস আরবি শেখানোর পর পড়ানো বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সাইদুল ওই বছরের ডিসেম্বরে রাবেয়াকে প্রতারণামূলক মৌখিকভাবে বিবাহ করে। পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে সাইদুলের সঙ্গে রাবেয়ার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে গত বছরের অক্টোবরে রাবেয়া গাজীপুর সদর থানায় বিভিন্ন সময়ে তাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে একটি অভিযোগ করে। যার কারণে সাইদুল কিছুদিন ভিকটিমকে উত্ত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকে।
খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গত ২ মাস ধরে ভিকটিমের কলেজে এবং বাসার বাইরে যাওয়া-আসার পথে পুনরায় তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে সাইদুল এবং প্রস্তাবে রাজি না হলে রাবেয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সাইদুল জানতে পারে রাবেয়া উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি সাইদুল কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে হত্যার পরিকল্পনা করে।
র্যাব মুখপাত্র বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় ছুরি সংগ্রহ করে রাবেয়ার বাসায় গিয়ে তার রুমে গিয়ে মাথায়, গলায়, হাতে এবং পায়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় মা ও দুই বোন দৌড়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সাইদুল ছুরি দিয়ে তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায়, সাইদুল চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পাস করে। সে গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করত। ২ মাস আগে দুটি চাকরিই ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর সে নিজের চেহারা পরিবর্তন করে টাঙ্গাইলে বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে যায়।
