সালটা ২০১৫, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে মোটামুটি সফল বিশ্বকাপ কাটিয়ে দেশে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আনকোরা মোস্তাফিজুর রহমানকে খেলিয়ে দিয়েছিলেন সে সময়কার প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। অভিষেকে জোড়া শিকার, তবে খুব চমকপ্রদ কোনো পারফরম্যান্স ছিল না এই বামহাতি পেসারের। দিনকয়েক পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলেও মোস্তাফিজ, সুযোগ পেলেন প্রথম একাদশে এবং অভিষেকেই বাজিমাত। ৫ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দিলেন ভারতের গর্বের ব্যাটিং লাইনআপ। ৮ বছর পর মোস্তাফিজের আরও পরিণত হওয়ার কথা থাকলেও একাদশে অনিয়মিত এক সময়ের কাটার মাস্টার। তার অনুপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দেখছেন বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা শরীফুল ইসলাম। কাল চেমসফোর্ডে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শরীফুল জানান, একাদশে সুযোগ পেয়ে স্থায়ী হওয়াটাই লক্ষ্য।
দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন নি®প্রভ, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে পাননি কোনো উইকেট। আইপিএল খেলতে গিয়েছিলেন চার্টার্ড বিমানে চেপে, সেখানেও দুই ম্যাচে খরুচে বোলিং মোস্তাফিজের। হাথুরুসিংহে সে কারণেই বোধহয় ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেও তার ওপর আস্থা রাখতে পারেননি, যেখানে ২০১৯ বিশ্বকাপে ২০ উইকেট নিয়েছিলেন এই বামহাতি পেসার। এবাদত হোসেন আর হাসান মাহমুদ, দুই ডানহাতি পেসারের সঙ্গে তাই একাদশে বামহাতি পেসার শরীফুল। বৃষ্টিতে খেলা থেমে যাওয়ার আগে ৫ ওভার বল করে ২১ রান দিয়ে পল স্টার্লিংয়ের উইকেট নিয়েছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী এই পেসার। শরীফুল নিজেও জাতীয় দলে আসার পর মাঝে কিছুদিন চোট ও অন্যান্য সমস্যা মিলিয়ে হয়ে পড়েছিলেন অনিয়মিত। এখন ফের এসেছেন দলে, আশা করছেন এবার আর ঝরে পড়বেন না, ‘আসলে অনেকদিন পর দলে আসছি (চেমসফোর্ডে প্রথম ওয়ানডের আগে ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ে সিরিজে), খেলছি, একাদশে আসছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আর মোস্তাফিজ ভাইকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে, সব ফাস্ট বোলারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানোর জন্য চেষ্টা করছে। সেজন্য এটা আমার জন্য বড় একটা সুযোগ। আমি যদি এখানে ভালো কিছু করতে পারি তাহলে আমার জন্য ভালো কিছু হবে।’ শরীফুলের কাছে প্রধান কোচের বা পেস বোলিং কোচের চাওয়া মন খুলে খেলা, ‘তারা বলেছেন মন খুলে খেলো। যেটা অনুশীলনে করছ সেটাই করো, আশা করি ভালো কিছু হবে।’ তাসকিন আহমেদ চোটের কারণে বাইরে, তারপরও দলে ৫ জন পেসার যাদের ৩ জন বামহাতি। মোস্তাফিজ ছাড়াও আছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে শরীফুল বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে যতই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ততই আমাদের মধ্যে ভালো হবে। যে ভালো করবে শেষ পর্যন্ত দেশের জন্যই ভালো হবে। অনেক উপভোগ করছি কারণ যেখানে প্রতিযোগিতা বেশি সেখানেই উপভোগটা বেশি হয়।’
বাংলাদেশের বোলারদের প্রথম ওয়ানডেতে অবশ্য খুব বেশি কিছু করতে হয়নি কারণ ১৬.৩ ওভারেই খেলা থামিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি। ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয়ের আশা করছে বাংলাদেশ, যদিও শুক্রবার জুড়েই চেমসফোর্ডের আবহাওয়ার পূর্বাভাষে বৃষ্টির খবরই দিচ্ছে বার্তা সংস্থাগুলো। শরীফুল ব্যাপারটা ছেড়ে দিলেন ভাগ্যের ওপরই, ‘অবশ্যই আমরা জয়ের জন্যই নামব। পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়গুলোকে নিয়েই যেন জয়টা ছিনিয়ে আনতে পারি, এটা (বৃষ্টি) তো আমাদের হাতে নেই। আমাদের আয়ত্তে থাকলে আমরা চেষ্টা করতাম।’
প্রথম ওয়ানডেতে শুরুতেই বড় বড় ব্যাটারকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। লিটন দাস, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান বিদায় নেন দলীয় ৫২ রানেই। মুশফিকুর রহিমের হাফ-সেঞ্চুরির সঙ্গে মেহেদি মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর অল্প অল্প অবদানে ৯ উইকেটে ২৪৬ রান করে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে রান না এলে লোয়ার অর্ডার যেন অল্প অল্প অবদান রাখে তা নিয়েও কাজ হচ্ছে বলে জানালেন শরীফুল, ‘আমরা তাসকিন ভাইকে দেখে দেখে নেটে প্রতিদিন ব্যাটিং করছি। একটু হলেও আমরা উন্নতি করার চেষ্টা করছি যেন ১০-১৫ রান করি তাহলে দলের জন্য সহায়ক হবে।’
দেশে আইরিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছিল লেজের জোরে নয় বরং মাথার শক্তিতেই। পর পর দুটো ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর গড়েছিল সাকিব-হৃদয়-মুশফিকদের ব্যাটের বিক্রমেই। ইংলিশ কন্ডিশনে ব্যাটিংটা হয়তো অত সহজ হবে না, তবে রান করতে হবে ওপরের ব্যাটসম্যানদেরই। যেটা অনুপস্থিত ছিল প্রথম ওয়ানডেতে। যদিও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তারা কতটা সেই সুযোগ পাবেন সেটাও প্রশ্নের মুখে, কারণ আকাশজুড়েই যে মেঘের আনাগোনা।
