জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.০৩%, কমেছে মাথাপিছু আয়ও

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০৪:৪২ এএম

চলতি অর্থবছর (২০২২-২৩) শেষে সাময়িক হিসেবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয়ও কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জিডিপির এ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

মাথাপিছু আয়ের সঠিক তথ্য সংবাদ সম্মেলনে না বলা হলেও একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৩ মার্কিন ডলারের মতো দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে অর্থবছরের শেষদিকে এসে আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রেখে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নামিয়ে আনে সরকার। এখন তা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কমেছে। গত অর্থবছরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ।

এদিকে ডলারের দাম বাড়ায় দেশের মাথাপিছু আয় কমার তথ্য দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। তিনি বলেন, ডলারের হিসাবে মাথাপিছু আয় কমেছে। ২ হাজার ৮০০ ডলারের নিচে রয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যাটি এখনই বলতে চাচ্ছি না। ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসেবে মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৮২৪ ডলার। বছর শেষে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯৩ ডলারে।

গত অর্থবছরের শুরুর দিক থেকে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হলে সব খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। ডলার সংকটের কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নেও বড় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কমিয়ে দিয়েছে অর্থছাড়। প্রভাব পড়েছে পুরো দেশের অর্থনীতিতে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বাড়লেও মানুষের ভোগ কমেছে। ফলে মোট দেশজ উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়ও কমে গিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হলেও তা মূলত সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব হয়নি। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৮২৪ ডলার। বছর শেষে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯৩ ডলারে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৩২৬ ডলার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ২০৯ ডলার।

এদিকে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসার আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি পৃথক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং এডিবি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে।

তবে বেশ কিছু কারণের উল্লেখ করে গত এপ্রিলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জিডিপির তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছিল, সর্বশেষ ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা এসেছে। ফলে এ দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ভোগের চাহিদাও কমে গেছে। পণ্য বিক্রির হারও কমেছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদেশের বাজারেও পণ্যের চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে। রপ্তানি আয়ও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর হার কমেছে। বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। সব মিলিয়ে এসব কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।

গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের পর এ দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ নাগাদ জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে। জিডিপি যে কমবে, সেই ইঙ্গিত এর আগে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি আবার আগের ধারায় ফিরবে বলেও জানিয়েছে আইএমএফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত