রাজধানী ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কের আইল্যান্ডের গাছ কাটা বন্ধে ৪ দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আবাহনী মাঠের পাশে ধানমণ্ডি এলাকাবাসী ও ‘সাত মসজিদ গাছ রক্ষা আন্দোলন’ আয়োজিত সবুজ সংহতি ও সবুজ প্রাচীর নামে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানান তারা। সমাবেশে প্রতিবাদী তরুণ শিল্পী, আলোকচিত্রী, লেখক, গবেষক, পরিবেশপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে গাছ রক্ষার এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যুক্ত হয়েছেন শতাধিক পরিবেশবাদী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি।
সমাবেশে আয়োজকরা চারটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো সাত মসজিদ সড়কের গাছ কাটা বন্ধ করে কাটা গাছের স্থানে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে, জনগণের করের টাকায় একবার গাছ লাগানো এবং আরেকবার গাছ কেটে আবার ‘উন্নতমানের দ্রুতবর্ধনশীল গাছ লাগানোর নতুন প্রকল্প গ্রহণের নামে গাছ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, বৃক্ষ ও নগরবাসীবান্ধব সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে নগরের গাছ ও সবুজবলয় সুরক্ষা করতে হবে এবং নগর উন্নয়নে প্রকৃতিভিত্তিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘উন্নয়নের নামে গাছ কাটা হচ্ছে। উন্নয়ন বলতে তারা কী বোঝাতে চাইছেন? মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির বেঁচে থাকা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা সুস্থ প্রকৃতি চাই, সুন্দর প্রকৃতি চাই। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে উঠতে চাই। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়ন চাই না। উন্নয়ন একটি উপায়, উন্নয়ন কখনো লক্ষ্য হতে পারে না। উন্নয়ন করা হয় মানুষের ভালোর জন্য, মানুষের সুুস্বাস্থ্য দেওয়ার জন্য, নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য।’ স্বাগত বক্তব্যে আন্দোলনের সমন্বয়ক আর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম কিউরেটর আমিরুল রাজীব বলেন, ‘গাছ কেটে যে উন্নয়ন হচ্ছে, সেই উন্নয়ন হচ্ছে এক শ্রেণির লোকের পকেটের উন্নয়ন। এটি জনগণের উন্নয়ন নয়। গাছ কাটা কোনো উন্নয়ন নয়। যেই মেয়র গাছ কাটে, সেই মেয়র আমরা চাই না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক রোবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, ‘গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। এ জন্য গাছকে বাঁচাতে হবে ব্যাপারটি এমন নয়। গাছেরও বাঁচার অধিকার আছে। আমাদের যেমন বাঁচার অধিকার আছে, তেমনি একটি সত্তা হিসেবে গাছেরও বাঁচার অধিকার আছে।’
এএলআরডির নির্বাহী প্রধান শামসুল হুদা বলেন, ‘গাছ পাহারা দেওয়ার কথা আমাদের মেয়র সাহেবের কিন্তু তিনি বা তার লোকেরা এই গাছ কাটছেন আর পাহারা দিচ্ছেন আমাদের তরুণরা। উন্নয়ন মানে গাছ কাটা নয়, পাহাড় কাটা নয়, নদী ভরাট করা নয়। আমরা শুধু সাত মসজিদ রোডের গাছ কাটার বিপক্ষে নই, এই দাবি সারা দেশের জন্য।’
সমাবেশে বাংলাদেশ রিকশা ভ্যানচালক শ্রমিক ফেডারশনের ধানমন্ডি শাখার সভাপতি সুমন মৃধা বলেন, ‘আমাদের তো এসি নাই, রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই থাকি। একটু গাছের নিচে গিয়া বসি আমরা। কী যে শান্তি লাগে তা বোঝাতে পারব না। এসির চেয়েও শান্তি। কিন্তু এখানকার গাছগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলো আমাদের রক্ষা করতে হবে।’
গবেষক পাভেল পার্থর সঞ্চালনায় সাত মসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে সংহতি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, গণস্বাস্থ্য, বেলা, বারসিক, উদীচী, জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন, ছায়ানট, নাগরিক উদ্যোগ, নারীপক্ষ, নিজেরা করি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাপা, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কসহ শতাধিক সংগঠন ও ব্যক্তি।
