তিন বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ জন্য ১৬ মে থেকে কেন্দ্রীয় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ‘উন্নয়ন উৎসব’ করেবন মেয়র ও কাউন্সিলররা।
তারা আলোচনা সভা, মতবিনিময় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। সেখানে সচিত্র তথ্য-উপাত্ত সংকলন, উপস্থাপন ও প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল বোর্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে।
ডিএসসিসির ওয়েব সাইটের প্রকাশিত দপ্তর আদেশে দেখা গেছে, ‘উন্নয়ন উৎসব’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি ইতোমধ্যে কয়েকটি সভা করেছে। সেখানে উন্নয়ন উৎসব কীভাবে সম্পন্ন হবে; সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সেসব বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ডিএসসিসির বর্তমান মেয়রের নেতৃত্বে বেশ কিছু জন গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব আবর্জনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (এসটিএস) গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এ কাজের সফলতা দৃশ্যমান হয়েছে। আগের মতো সড়কে যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকে না।
এ ছাড়া বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে প্রবাহমান করেছেন। নর্দমা ও খাল পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা কমিয়েছেন। এসব সফলতার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেসব কাজের কিছু চিত্রসহ উপস্থাপনা তুলে ধরবেন।
ডিএসসিসি সূত্রে আরও জানা যায়, মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ডিএসসিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজস্ব আদায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ডিএসসিসির নিয়মিত পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। আগে নিজস্ব আয় থেকে এ পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হতো না। আর এখন পরিচালন ব্যয় মিটিয়েও নিজস্ব খরচে অনেক উন্নয়ন কাজও করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। বাকি সময়ে আরও ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া টেকসই প্রকৌশল উন্নয়ন, গণ পরিবহন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে নিরন্তর প্রচেষ্টা, মশা নিয়ন্ত্রণেও দিনরাত পরিশ্রম করছেন ডিএসসিসির মশক নিধন কর্মিরা। সবকিছুতে কার্যকর সফলতা না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সফলতা মিলেছে। সেসব চিত্র তুলে ধরবেন তিনি।
ডিএসসিসির ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিএসসিসি থেকে তিন বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে ‘উন্নয়ন উৎসব’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ কমিটির একজন সদস্য আমি। এ বিষয়ে কয়েকটি সভা করা হয়েছে। ডিএসসিসির নির্দেশনার আলোকে সব সাধারণ ও নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উন্নয়ন উৎসবের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ডিএসসিসি কেন্দ্রীয়ভাবেও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
