সেনাবাহিনীর নির্দেশে গত মঙ্গলবার ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষোভের তিন দিন পর জামিনে ছাড়া পান তিনি। পাকিস্তানের মানুষ সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে দেখতে চায় না। ইমরান কি পারবেন তাদের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করতে? পাকিস্তানকে নতুনরূপে হাজির করতে তিনি কি সক্ষম হবেন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
দাবার গুটি
সাল ২০১৮। কয়েক মাস পরই নির্বাচন। ক্ষমতায় শহিদ খাকান আব্বাসি। পাকিস্তানের সাংবাদিক মহলে একদিন হঠাৎ একটি খবর বেশ শোরগোল ফেলে। খবরটি হলো প্রধানমন্ত্রী আব্বাসির অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল নাকি সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে বলেছেন, আর্থিক ধসের মুখে দেশ। এ অবস্থায় তিনি চান না তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ নির্বাচনে আবার জিতুক। এখানে নাকি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ অর্থমন্ত্রী ইসমাইল জেনারেল বাজওয়াকে ওই কথা আসলেই বলেছিলেন কি না, তার প্রমাণ নেই। পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান অর্থমন্ত্রীর আশঙ্কা ও ইচ্ছার কথা এক সাংবাদিককে জানান বলে ওই সাংবাদিক দাবি করেন। যা হোক, বাজওয়া থেকে শুরু করে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা যে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দেশকে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েন, তা পাকিস্তানের রাজনীতিসচেতন মহল মাত্রেই জানে। এর জন্য প্রমাণের দরকার নেই। পাকিস্তানের ওই সময় একজন সুপারহিরোর দরকার আর সেনা কর্মকর্তারা আরও আগে থেকে একজনকে গড়েপিটে তুলছিলেন। রাজনীতিবিদ হতে হলে কী কী করতে হবে, কী কী করতে হবে না এসব বিষয়ে তাকে নসিহত করছিলেন তারা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সেনাপ্রধান বাজওয়া বুঝতে পারেন, তাদের দাবার নতুন গুটিকে রাজনীতির মঞ্চে হাজির করার এখনই উপযুক্ত সময়। এই গুটি আর কেউ নন। একসময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ইমরান খান। পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। চোস্ত ইংরেজি বলতে পারেন। রাজনীতিও কয়েক বছরে শিখে নিয়েছেন। সুদর্শন বিধায় নারী সমাজে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। জনগণকে বোঝানো হলো, দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে এই সুপারহিরো বা বীর ছাড়া উপায় নেই। ইমরান যেমন খেলার মাঠে পাকিস্তানকে জিতিয়েছেন, তেমনি রাজনীতির মাঠেও তিনি ব্যর্থ হবেন না। তিনিই পারবেন দেশকে সঠিক পথে আনতে, দুর্নীতিমুক্ত করতে। ম্যাজিক দেখানোর জন্য তার কেবল ক্ষমতা দরকার। সেটা পেলেই ইমরান ক্রিকেটার থেকে ম্যাজিশিয়ান হয়ে যাবেন। রাজনীতির ম্যাজিশিয়ান।
কেউ যদি সে সময় সেনাবাহিনীকে প্রশ্ন করত, পাকিস্তানের জনগণ কি ইমরানকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নেবে? সেনাবাহিনী সে ক্ষেত্রে উত্তর দিত, ভুল প্রশ্ন করলে তুমি। আসলেই তো। ভুল প্রশ্নই তো। যে দেশের মানুষ এক প্লেট বিরিয়ানির জন্য যাকে বলা হবে, তাকেই ভোট দেবে, তাদের মানা না মানার কী আছে? তাদের সামনে এ ছাড়া উপায়ই বা কী? পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতাকর্মীরা যতই স্লোগানে চিৎকার করে বলুক না কেন, জনগণই ক্ষমতার উৎস, বাস্তবতা হলো পাকিস্তানে ক্ষমতার উৎস জনগণ কখনোই ছিল না। সেখানে বন্দুকের নলই ঠিক করে ক্ষমতায় কে বসবে, কত দিন বসবে।
২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানে ব্যাপক আয়োজন করে ‘সাধারণ নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়। সুপারহিরো ‘নির্বাচিত’ হলেন। পাকিস্তানের মানুষ আবার আশায় বুক বাঁধল এই ভেবে যে, এবার তাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে। জার্মান নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখটের এক নাটকে ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিওকে তার ছাত্রী আন্দ্রিয়া বলেছিলেন, ‘যে দেশে একজন বীর নেই, সে দেশ দুর্ভাগা।’ ছাত্রীর বক্তব্য শুনে গ্যালিলিও বলেছিলেন, ‘না আন্দ্রিয়া, দুর্ভাগা সেই দেশ, যার একজন বীর দরকার।’ নাট্যকার ব্রেখট নাটকের সংলাপ লেখার সময় হয়তো জানতেন না, কোনো দেশ আরও দুর্ভাগা হতে পারে, যেখানে অদক্ষ একজনকে বীরের নামে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয় স্বার্থান্বেষী মহল।
সিস্টেমের অংশ
যে সেনাবাহিনী ইমরানকে ক্ষমতায় বসায়, সেই বাহিনীই তাকে গত বছর ক্ষমতাচ্যুত করে। কারণ সেনাবাহিনীর কথামতো কাজ করছিলেন না তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় পাকিস্তান আর্মির দীর্ঘদিনের সুহৃদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যথাযথ আনুগত্য প্রদর্শন করেননি ইমরান। বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ চীনের প্রতি তার বিশেষ পক্ষপাত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকের অপছন্দ ছিল। পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরানের মতপার্থক্য তো ছিলই, সেই সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক দুরবস্থা, যা ইমরানের আমলে আরও সঙ্গিন হয়ে ওঠে। প্রায় চার বছরের শাসনামলে ইমরান পাকিস্তানের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যান। একই সঙ্গে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেও ব্যর্থ হন তিনি। অথচ অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন ও স্বজনপ্রীতি নির্মূল-নির্বাচনী প্রচারণায় এসব লোকরঞ্জনবাদী ওয়াদা করেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু কিছুই করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বরং ইমরান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেই রয়েছে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ। ইমরান আর যাই হোন, সিস্টেম পাল্টে ফেলার মতো বীর নন। পাকিস্তানের বিদ্যমান সিস্টেমেরই অংশ তিনি। এই সিস্টেমের স্বার্থই তিনি রক্ষা করেছেন, আগামীতেও করবেন।
পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ইমরানকে একা দোষ দেওয়া যায় না। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মুক্তবাজার অর্থনীতি আজ পাকিস্তানকে এ জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। ঘুণে ধরা রাষ্ট্রটিকে মেরামত করা সহজ নয়। দেশটির সংবিধান কয়েক দিস্তা কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়। সংবিধানের একটি কপি প্রিন্ট করতে যে টাকা লাগে, সংবিধানের মূল্য তার চেয়েও কম। পাকিস্তানের সব প্রতিষ্ঠানই এখন বেশ ‘স্বাধীন’। বিচার বিভাগ এতটাই ‘স্বাধীন’ যে সংবিধান তারা পুনরায় লিখতে পারে। দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারকদের ইচ্ছা করে বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই বার্তা দেওয়ার জন্য যে, দুর্নীতি অপরাধ নয় যদি সেটি কোনো বিচারক করেন। ভিন্ন মতের বিচারকদের বেঞ্চে বসতে দেওয়া হয় না। নির্বাচন কমিশন, পার্লামেন্টের মতো সাংবিধানিক সংস্থার কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না বিচার বিভাগ। আবার নির্বাচন কমিশনও এতটাই ‘স্বাধীন’ যে, তারা চাইলে বিচারিক আদেশ ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলে দিতে পারে। পার্লামেন্টের সদস্যরাও অন্যদিকে বিচার বিভাগকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সুযোগ হাতছাড়া করেন না।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব
গত বছরের এপ্রিলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে হেরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আগের এক দুর্নীতির মামলায় ইমরান প্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত এই এক বছরের বেশি সময়ে অনেক ঘটনা তাকে ঘিরে পাকিস্তানে ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো সেনাবাহিনীর একাংশের সঙ্গে ইমরানের সরাসরি দ্বন্দ্ব। প্রধানমন্ত্রীর পদ চলে যাওয়ার পর ইমরান অভিযোগ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসির তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন। তার ওই অভিযোগে সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং ব্যাপক নাখোশ হয়। মিডিয়া উইং তখন ক্ষমতাসীন শাহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়। গত বছরের ৩ নভেম্বর পাঞ্জাবে লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। তখন তিনি আবার জোর দিয়ে বলেন, মেজর জেনারেল নাসির তাকে একবার নয়, দুবার হত্যার চেষ্টা করেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান তাকে হত্যাচেষ্টার জন্য আইএসআই কর্মকর্তা ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ খানকেও দায়ী করেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে ৯ মে ইমরান গ্রেপ্তার হন। অবশ্য ইমরান পাকিস্তানের প্রথম সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, যাকে ওই দিন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর আগে ১৯৬২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলে তার সমর্থন ছিল না। এ কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে করাচি জেলে পাঠানো হয়। এরপর জুলফিকার আলী ভুট্টো থেকে শুরু করে বেনজির ভুট্টো, নওয়াজ শরিফ এদের প্রত্যেককে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার জন্য শুরুতে ইমরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছিলেন। কিন্তু যে মুহূর্তে সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়া অবসর নেন, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে আঙুল সরিয়ে বাজওয়ার দিকে আঙুল তোলেন তিনি। বাজওয়ার উত্তরসূরি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গেও ইমরানের সম্পর্ক ভালো না। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাজওয়া আইএসআই প্রধান হিসেবে মুনিরকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। আট মাস পরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরানের অনুরোধে আসিমকে ওই পদ থেকে সরিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদকে আইএসআই প্রধান করা হয়। আসিমকে কেন দায়িত্ব গ্রহণের আট মাস পরই সরিয়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গত বছরের শুরুতে একটি অডিও ফাঁস হলে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। ওই অডিওতে পিটিআইয়ের সাবেক নেতা আলিম খান বলেন, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবির দুর্নীতি আইএসআই প্রধান আসিম প্রকাশ করায় তাকে বরখাস্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইমরান।
ক্ষমতার জন্য লড়াই
ক্ষমতায় ফেরার জন্য গত এক বছর রাজপথে পুরোদমে ছিলেন ইমরান। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার জনপ্রিয়তা যেখানে তলানিতে ঠেকেছিল, গদি হারানোর পর তা আবার বাড়তে থাকে। কারণ শাহবাজ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা সামাল দিতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, বিদেশি দেনার ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, আমদানি বৃদ্ধি, সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতির মধ্যে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে। ঋণদাতা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ মেনে কাজ করতে গিয়ে শাহবাজ সরকারকে বিদ্যুৎ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, যা গণবিরোধী ও তাতে নতুন জোট সরকারের ওপর জনরোষ বাড়ছে বৈ কমছে না। তাই ইমরানের ওপর ফের ভরসা করা ছাড়া এ মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণের সামনে বিকল্প নেই। সাবেক এই ক্রিকেটার তার প্রতি বাড়তে থাকা জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, মানুষের ক্ষোভ এখনই কাজে লাগাতে হবে, নইলে দেরি হয়ে যাবে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় তাই তার এত তাড়াহুড়া।
ইমরান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা সেনাবাহিনীকে দায়ী করার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। সামরিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভ বা হামলার ঘটনা পাকিস্তানের ইতিহাসে ছিল না। গত সপ্তাহে প্রথম
পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়। পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি শহরে সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ করেন পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া ইমরানের নিজের শহর লাহোরে সেনা কমান্ডারের বাসভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করেন তারা। আট কর্মী গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে প্রাণ হারান।
পাকিস্তানে আজ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যাচ্ছে। সিভিলিয়ানদের অনেকে মনে করেন, দেশটির দুর্দশার জন্য হাইব্রিড ব্যবস্থাই দায়ী, যে ব্যবস্থায় সরকার হবেন বেসামরিক কেউ আর তাকে পেছন থেকে পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী। ইমরানের জন্য রাজপথে নামা হাজার হাজার মানুষ হয়তো জানেন না, তাদের নেতা কখনোই সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করবেন না। বরং তিনি চান, সেনাবাহিনী যেন তার হয়ে কাজ করে, তাকে ক্ষমতায় আবার বসায়। ইমরানের ওপর নাখোশ সেনাবাহিনীর একাংশ, গোটা বাহিনী নয়। গোটা বাহিনী হলে ইমরানকে রাজপথে নামতেই দেওয়া হতো না। আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান জেনারেল জহির-উল-ইসলাম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খানসহ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে ইমরানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। তাই ইমরান যদি ফের ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এদের সমর্থনেই আসবেন। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সিভিলিয়ানদের মধ্যে যারা রাজনীতিকে সেনাবাহিনীর প্রভাবমুক্ত দেখতে চাইছেন, তাদের হতাশ হওয়া ছাড়া কিছু করার নেই।
