পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩, ০৩:২৬ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী এলাকায় ততই উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। বিভিন্ন স্থানে ঘটছে বিচ্ছিন্ন অনেক ঘটনা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, নির্বাচনী অফিসে হামলা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের নানা প্রকার হুমকির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সে তুলনায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ জমা হচ্ছে খুব কম।

এসবের মধ্যেই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খান, টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন, জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান ও হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলাম রনির প্রচারণা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে। অন্য প্রার্থীরাও প্রচার চালাচ্ছেন।

নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকেই। সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানের পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনের মিডিয়া সমন্বয়কারী এসএম ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারদলীয় লোকজন তাদের পোস্টার লাগাতে দেয়নি। রারেত আঁধারে তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া ২৩ নম্বর ওয়ার্ডেও তাদের পোস্টার লাগাতে বাধা প্রদান করা করা হয়।

গত শনিবার গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের নির্বাচনী গণসংযোগ চলার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর, হ্যান্ড মাইক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জায়েদা খাতুনকে প্রচারণাকালে কয়েকবার বাধা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার কর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে তার সমর্থক ও কর্মীদের হুমকি প্রদানেরও অভিযোগ রয়েছে।

গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমতউল্লা খানের নিজ ওয়ার্ডে (৫৭ নম্বর) নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সরকারদলীয় একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

নগরীর পুবাইলে ঘুড়ি প্রতীকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খানের ওপর হামলা চালিয়ে গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তিনি বৃহস্পতিবার পুবাইল থানায় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে পুবাইল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পুলিশ পাঠিয়ে ওই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছি।’

নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মিষ্টি কুমড়া প্রতীকের মো. রফিকুল ইসলামের লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর লাটিম প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলামের ওপর হামলার চেষ্টা এবং তার এক কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের জায়েদা খাতুনের পক্ষে টানানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকরা।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব লিখিত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মৌখিক অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানানো হচ্ছে। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১০ দিন বাকি। ২৫ মে নির্বাচন হবে। প্রায় ১২ লাখ ভোটার অধ্যুষিত দেশের বিশাল এ সিটি করপোরেশনে ৮ জন মেয়র, ৭৮ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ২৩৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত