বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না, দূরেও ঠেলে

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ০১:০০ এএম

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শ্রীকান্ত উপন্যাসে বলেছিলেন, ‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।’ কেবল রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্তের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য, তা নয়। উপন্যাসের পাতার বাইরে বাস্তবেও অনেকে তীব্র প্রেম থাকা সত্ত্বেও একসঙ্গে থাকতে পারেন না। এমনই এক যুগলকে নিয়ে লিখেছেন‍ তৃষা বড়ুয়া

দুজনে দেখা হলো

ক্লিওপেট্রা। ১৯৬৩ সালের সাড়া জাগানো এক চলচ্চিত্র। মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ-আমেরিকান নায়িকা এলিজাবেথ টেলর। পরাক্রমশালী রোমান জেনারেল ও ক্লিওপেট্রার প্রেমিক মার্ক অ্যান্টনি চরিত্রে ছিলেন আরেক বিখ্যাত অভিনেতা রিচার্ড বার্টন। ক্লিওপেট্রা ছবিতে অভিনয়ের সময় এ দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল, তা নয়। শুটিং শুরুর এক দশক আগে এক পার্টিতে তাদের মধ্যে প্রথম দেখা হয়। আলাপ সেদিন তেমন একটা হয়নি। রিচার্ড নারীদের প্রতি বিশেষভাবে দুর্বল ছিলেন। সুন্দরী নারী দেখলেই তাদের কথায়, কাজে মুগ্ধ করে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার অসীম পারদর্শী ছিলেন তিনি। তার এই পারদর্শিতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানত। স্বাভাবিকভাবে এলিজাবেথও জানতেন। তাই পার্টিতে রিচার্ডের সঙ্গে প্রথম দর্শনে নিজেকে নিয়ে সতর্ক ছিলেন তিনি। এরপর তাদের দেখা হয় ১০ বছর পর ১৯৬২ সালে ক্লিওপেট্রার সেটে। ৩০ বছর বয়সী এলিজাবেথকে দেখে সুদর্শন ওয়েলশ অভিনেতা রিচার্ড তার কাছে গিয়ে কানে কানে বলেন, ‘কেউ কি আপনাকে কখনো বলেছেন, আপনি অনেক সুন্দর?’ এমন মন্তব্য জীবনে বহুবার শুনেছেন ঘন কালো চুল ও সমুদ্রের মতো নীল চোখের অনিন্দ্যসুন্দর এই নারী। ওই সময় তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত তারকা। ৩৬ বছর বয়সী রিচার্ডের অতি সাধারণ স্তুতিতে তাই মন ভোলাননি এলিজাবেথ। উত্তরে তিনি মজা করে বলেছিলেন, ‘এই যে আমাদের মহান প্রেমিক! ওয়েলশের বুদ্ধিজীবী! আপনার মতো রসিক একজন মানুষ এত সাধারণ একটা মন্তব্য করলেন!’

নিজেকে অবশ্য বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি এলিজাবেথ। ১৯৬২ সালের ২২ জানুয়ারি ক্লিওপেট্রা ছবিতে এলিজাবেথ ও রিচার্ডের একসঙ্গে একটি সিন ছিল। সেটিই ছিল তাদের প্রথম একসঙ্গে অভিনয়। সেটে যখন রিচার্ড আসেন, তখন তার অবস্থা ভালো ছিল না। দুই রাত ঘুমাননি। আগের রাতে প্রচুর মদ্যপান করেছিলেন। শুটিং শুরুর আগে বিকেল ৫টার দিকে স্পটবয়কে এক কাপ কফি দিতে বলেন তিনি। কফি আসার পর রিচার্ড কোনোভাবেই কফির কাপ ঠোঁটের কাছে আনতে পারছিলেন না, কারণ তার দুই হাত কাঁপছিল। একপর্যায়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এলিজাবেথের কাছে সাহায্য চান রিচার্ড। তিনি এলিজাবেথকে বলেন, ‘ভালোবাসা আমার, তুমি কি কাপটি আমার মুখের কাছে এনে দিতে পারবে?’ ততক্ষণে এলিজাবেথের বিস্ময় কেটে গিয়েছিল। তিনি কাপটি সহশিল্পীর ঠোঁটের কাছে এনে মুখ চেপে হাসতে থাকেন। ওই ঘটনার কথা স্মরণ করে এলিজাবেথ পরে বলেছিলেন, ‘রিচার্ড সেদিন অনেক এলোমেলো ছিল। তার সবুজ চোখ দুটি পিটপিট করছিল আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। আমি কফির কাপটি তার ঠোঁটের সামনে ধরেছিলাম। তিনি পুরো কফি শেষ করেন। সে সময় আমরা পরস্পরের দিক থেকে দৃষ্টি সরাইনি।’

কাছে আসা

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মঞ্চে শেক্সপিয়ারের নাটকে অভিনয় করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ওয়েলশ অভিনেতা রিচার্ড। বিশেষ করে ১৯৬৪ সালে শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকে হ্যামলেট চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের স্মৃতিতে বহুদিন ছিল। প্রখ্যাত মঞ্চনাট্য সমালোচক কেনেথ টাইনান এই ওয়েলশ অভিনেতাকে লরেন্স অলিভিয়েরের সহজাত উত্তরসূরি মনে করতেন। লরেন্স অলিভিয়ের ছিলেন বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মঞ্চ কাঁপানো এক অভিনেতা। রিচার্ডকে শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে দেখতেন সমালোচক ও দর্শকরা। তার কাছে তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু সেসব প্রত্যাশা রিচার্ড সেভাবে পূরণ করতে পারেননি। তার এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ছিল অতিরিক্ত মদ্যপান। এ কারণে তিনি প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারেননি বলে বিশ্বাস করেন তার সহকর্মী থেকে শুরু করে সমালোচকরা। তা সত্ত্বেও রিচার্ড ছিলেন তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতা। থিয়েটার জগতের এই নক্ষত্র সম্পর্কে এলিজাবেথের ধারণা শুরুতে ইতিবাচক ছিল না। তার নারী আসক্তির কথা তিনি তো জানতেনই। এ ছাড়া এলিজাবেথ মনে করতেন, রিচার্ড অত্যন্ত অহংকারী অভিনেতা। কিন্তু শুটিংয়ের দিন তার মুখের সামনে কফির কাপ ধরার সময় তাকে অহংকারী মনে হয়নি এলিজাবেথের। বরং তাকে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া এক নাজুক, দুর্বল মানুষ মনে হয়েছিল তার। এলিজাবেথের সেদিনের অনুভূতি একপাক্ষিক ছিল না। রিচার্ড পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি সেই মুহূর্তে এলিজাবেথের প্রেমে পড়ে যাই। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যেমন প্রতিরোধ করা যায় না, ঠিক তেমনি তার মতো নীল চোখের রমণীকে উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

পথে বাধা

এলিজাবেথ আর রিচার্ড দ্রুত পরস্পরের প্রেমে পড়লেও তাদের পথ মসৃণ ছিল না। দুজনই ছিলেন বিবাহিত। এলিজাবেথের স্বামী ছিলেন আমেরিকান গায়ক ও নায়ক এডি ফিশার আর রিচার্ড বিয়ে করেছিলেন ওয়েলশ অভিনেত্রী সিবিল বার্টনকে। ক্লিওপেট্রা সেটে এলিজাবেথ-রিচার্ডের একসঙ্গে সিন থাকলে সেখানে উপস্থিত থাকতেন না ফিশার। কারণ ওই জুটির খোলাখুলি প্রেম তার জন্য অপমানজনক ছিল। অন্যদিকে সিবিল মনে করতেন, স্বামীর এই প্রেম আর দশটা প্রেমের মতোই ক্ষণস্থায়ী। সিবিল অবশ্য দ্রুতই বুঝতে পারেন, রিচার্ডের এবারের অনুভূতি একেবারে ভিন্ন।

এলিজাবেথ-রিচার্ডের প্রেম সর্বত্র ব্যাপক আলোড়ন ‍সৃষ্টি করেছিল। তারা যেখানে যেখানে ঘুরতে যেতেন, একান্তে সময় কাটাতেন, পরদিন পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবিসহ তাদের প্রেম কাহিনি ছাপা হতো। হোক সেটা ভূমধ্যসাগরে ভাসমান কোনো প্রমোদতরী বা রোমের সুদৃশ্য কোনো সড়ক। প্রমোদতরীতে তাদের পরস্পরকে চুমু খাওয়া বা সড়কে হাত ধরে হেঁটে বেড়ানোর ছবি তুলতে ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফাররা এই যুগলের পেছন পেছন ছুটতেন। বিশেষ মুহূর্তের ছবি তুলতে পারলেই তাদের দেওয়া হতো মোটা পারিশ্রমিক। অনেকের ধারণা, এই যুগলই পাপারাজ্জিদের উসকে দিয়েছিলেন, যাদের দাপট পরবর্তী সময়ে অনেক বেড়ে যায়। শুরুর দিকের প্রেমের অভিজ্ঞতা নিয়ে রিচার্ড একবার এক সাংবাদিককে বলেছিলেন, ‘এলিজাবেথের আগে অনেকের সঙ্গে প্রেম করি আমি। কিন্তু তার সঙ্গে প্রেমের অভিজ্ঞতা ছিল একদম আলাদা। তাকে নিয়ে যেখানেই যেতাম, সেখানেই ফটোগ্রাফারদের উৎপাত শুরু হয়ে যেত। পত্রিকায় বড় করে আমাদের ছবি ছাপা হতো। এলিজাবেথ যে এত বিখ্যাত, আমি আগে জানতাম না। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভকে পর্যন্ত সরিয়ে পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা করে নিতেন তিনি।’

এলিজাবেথ-রিচার্ডের প্রেম এতটাই আলোড়ন তুলেছিল যে, ভ্যাটিকান সিটি পর্যন্ত তাদের নিয়ে মন্তব্য করে। সেখানকার সাপ্তাহিক পত্রিকায় এলিজাবেথকে ‘কামোত্তেজক ভবঘুরে’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কারণ ফিশারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় রিচার্ডের সঙ্গে প্রেম করছিলেন তিনি। এটিকে গর্হিত অন্যায় হিসেবে দেখে ভ্যাটিকান সিটি। রিচার্ডও যে বিবাহিত এবং তিনিও যে তার স্ত্রী সিবিলের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন, এ নিয়ে রোমান

ক্যাথলিক চার্চের মুখপাত্রটিকে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। পুরুষ হওয়ার সুবিধা এ ক্ষেত্রে পেয়ে থাকতে পারেন রিচার্ড।

অবশেষে বিয়ে

এলিজাবেথ আর রিচার্ড অবশ্য তাদের ঘিরে সমালোচনা বা নিন্দা কোনোটাই পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। স্বাভাবিকভাবেই একপর্যায়ে ফিশার ও সিবিলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় এলিজাবেথ আর রিচার্ডের। ১৯৬৪ সালের ১৫ মার্চ কানাডার মন্ট্রিল শহরে বিয়ে করেন একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত এই জুটি। রিচার্ড ছিলেন এলিজাবেথের পঞ্চম স্বামী আর এলিজাবেথ রিচার্ডের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। বিয়ের পরও পাপারাজ্জিদের উপদ্রব থেকে এলিজাবেথ-রিচার্ডের মুক্তি মেলেনি। বিশেষ করে এলিজাবেথকে এর জন্য ভুগতে হয়েছিল অনেক। এলিজাবেথ ও তার অভিনীত ছবি মিডিয়া থেকে শুরু করে সব জায়গায় প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন জন স্প্রিংগার নামে এক ব্যক্তি। একই দায়িত্ব তিনি পঞ্চাশের দশকের আরেক প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর ক্ষেত্রেও পালন করেছিলেন। স্প্রিংগার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘একটি কাজ যেটি মেরিলিন করতে পারতেন কিন্তু এলিজাবেথ করতে পারতেন না, তা হলো মেরিলিন চাইলে কালো চশমা বা কালো পরচুলা বা এ ধরনের কিছু একটা পরে রাস্তায় একা হাঁটতে পারতেন। কিন্তু এলিজাবেথ এটি করতে পারতেন না। হোটেল থেকে এলিজাবেথ আর রিচার্ড একসঙ্গে বের হয়েছেন আর তাদের ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে যেত না, এমনটা কখনো হয়নি। এ নিয়ে অসুখী ছিলেন এই দম্পতি।’ এলিজাবেথ মাঝেমধ্যে ভাবতেন, তাদের দুজনেরই যখন বয়স হবে, তখন আর হই-হট্টগোলের মধ্যে থাকা লাগবে না। তিনি অভিনয় ছেড়ে দিয়ে মন দিয়ে সংসার করবেন আর রিচার্ড যেহেতু বরাবরই লেখক হতে চেয়েছিলেন, তিনিও তখন লেখালেখিতে মন দেবেন। এই ভাবনা চারদিকের কোলাহল থেকে এলিজাবেথকে কিছুটা স্বস্তি দিত। এলিজাবেথের ভেবে ভালো লাগত, এখন না পারলেও, একদিন না একদিন তারা লোকজনের ভিড় থেকে দূরে নিরুপদ্রব জীবনযাপন করতে পারবেন। দুঃখের বিষয়, এলিজাবেথের এই ভাবনা সুন্দর কল্পনা হিসেবেই শেষ পর্যন্ত থেকে গিয়েছিল। কল্পনা বাস্তবে কখনো রূপ নেয়নি।

অনিবার্য ভাঙন

এলিজাবেথ আর রিচার্ড একসঙ্গে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তারা পরস্পরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন এবং একে অপরের কাছে সমর্পিত ছিলেন। কিন্তু তাদের প্রেমের রসায়নে কোথাও যেন ফাঁক ছিল। একে অপরের সান্নিধ্যে আসার জন্য তারা উতলা হয়ে উঠতেন ঠিকই, কিন্তু পরমুহূর্তেই তারা পরস্পরকে সহ্য করতে পারতেন না। এ বিষয়ে এলিজাবেথ বলেছিলেন, ‘আমরা ছিলাম চুম্বকের মতো। বিপরীত মেরু কাছে এলে আমরা পরস্পরকে আঁকড়ে ধরতাম আর সমমেরু আমাদের দূরে ঠেলে দিত।’

১৯৬৬ সালে মার্কিন পরিচালক মাইক নিকোলস নির্মাণ করেন হু ইজ এফ্রেইড অব ভার্জিনিয়া উলফ? ওই ছবিতে এলিজাবেথ আর রিচার্ড দুজনই অভিনয় করেছিলেন। মার্থা চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য অস্কার জিতেছিলেন এলিজাবেথ। রিচার্ডও অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন কিন্তু তিনি অস্কার পাননি। পরে রিচার্ড স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘হয়তো আমি এলিজাবেথের অভিনয় নৈপুণ্য বা অন্য কিছুতে ঈর্ষান্বিত ছিলাম। ঠিক কীসে এমন অনুভূতি হতো, তা বলতে পারব না।’ অতিরিক্ত মদ্যপান করে মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে ঘরে ফিরতেন রিচার্ড আর ওই সময় এলিজাবেথের সঙ্গে তার ঝগড়া বেধে যেত। পরদিন অবশ্য তিনি চিঠিতে ক্ষমা চাইতেন। ১৯৭২ সালের ৯ অক্টোবর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা এক চিঠিতে রিচার্ড বলেছিলেন, ‘দেখো, আজ আমি লক্ষ্মী হয়ে থাকব আর তোমাকে চমকে দেব।’

হাসি-কান্নার মধ্য দিয়ে এলিজাবেথ আর রিচার্ড প্রায় ১০ বছর একসঙ্গে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে তারা বেশিদিন পরস্পরের থেকে দূরে থাকতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ১০ অক্টোবর আফ্রিকার বতসোয়ানায় এক নদীর ধারে এলিজাবেথ ও রিচার্ড ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এই দ্বিতীয় বিয়ে এক বছরও টেকেনি। ১৯৭৬ সালের ১ আগস্ট ফের ছাড়াছাড়ি হয়। এলিজাবেথ এরপর আরও দুবার বিয়ে করেন, কিন্তু রিচার্ডকে কখনো ভুলতে পারেননি। এলিজাবেথ বলেছিলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে থাকার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও আমি রিচার্ডকে ভালোবাসতাম। হয়তো আমরা দুজনকে এত বেশি ভালোবাসতাম যে, আমাদের পক্ষে একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয়নি। রিচার্ডের পর যারাই আমার জীবনে এসেছিলেন, তারা কেবল আমার সঙ্গী ছিলেন। প্রেমিক হতে পারেননি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত