দ্বিতীয় দফার ভোট এড়াতে পারলেন না এরদোয়ান

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ০২:৩৫ এএম

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এগিয়ে থাকলেও সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার মতো যথেষ্ট ভোট না পাওয়ায় রানঅফ (শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে পুনঃভোট) ভোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। এরদোয়ান বা তার বিরোধীদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু, কেউই ৫০ শতাংশ জনসমর্থন আদায় করতে না পারায় আগামী ২৮ মে তাদের মধ্যে আরেক দফা ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। তবে এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোটে নিজের সম্ভাবনা দেখছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। রবিবার সন্ধ্যায় এরদোয়ান তার দলের সদর দপ্তরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলছেন, আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতা যে তারই সেটা নিশ্চিত।

বিবিসি বলছে, প্রথম ধাপে এরদোয়ান পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল পেয়েছেন ৪৫ শতাংশেরও কম ভোট। অবশ্য এরদোয়ান নির্বাচনপূর্ব জরিপ ও অনুমানগুলোর চেয়ে ভালো ফল করেছেন। গতকাল সমর্থদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাসী ও লড়াকু দেখা গেছে তাকে। 

এরদোয়ান বলেছেন, ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২৬ লাখ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছি। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের সময় এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি আমরা।

অন্যদিকে কামাল কিলিচদারোগলু গতকাল সোমবার ভোরে মিত্রদের নিয়ে আঙ্কারায় তার দলের সদর দপ্তরে একটি মঞ্চে এসে দাঁড়ান এবং ভোট নিয়ে খুব আশাবাদী দেখানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, যদি গোটা জাতি (ভোটে) দ্বিতীয় রাউন্ডের কথা বলে, তাহলেও আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতব।

চুয়াত্তর বছর বয়সী কিলিচদারোগলু রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা হিসেবে আগে বেশ ক’টি নির্বাচনে হেরেছেন, কিন্তু প্রেসিডেন্টের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা বাতিল করার প্রশ্নে তার বার্তাটি জনমনে গভীর দাগ কেটেছে।

দু’সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাশিত দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান যাই থাকুক না কেন, এরদোয়ান অনেক পোলস্টারের ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যে প্রমাণ করেছেন, যারা বলেছিলেন যে নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী এগিয়ে থাকবেন এবং এমনকি প্রথম ধাপেই সরাসরি জয়লাভ করতে পারেন। তবে দ্বিতীয় দফা ভোট কতটা কাছাকাছি হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, এবং এই নির্বাচনের তৃতীয় প্রার্থী উগ্র-জাতীয়তাবাদী সিনান ওগানের প্রতি ৫ শতাংশ ভোটের কী হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করা দেশটির ৮ কোটি ৫০ লাখ জনতা এখন দুই সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন, এ সময় স্থানীয় মুদ্রা ও স্টক মার্কেটের দরপতনের মাধ্যমে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত