থাইল্যান্ডের নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মিত্র দলগুলোকে হারিয়ে চমকপ্রদ জয় পেয়েছে দুই বিরোধী দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি ও পুয়ে থাই পার্টি। গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন পুয়ে থাই পার্টি ও আরেক তরুণ নেতা পিটা লিমজারোয়েনরাটের নেতৃত্বাধীন মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি অন্যদের ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচাকে সমর্থনকারী দলগুলো জনসমর্থনের দিক থেকে বেশ পেছনে পড়ে গেছে। এখন মুভ ফরোয়ার্ড ও পুয়ে থাই জোট গঠনের জন্য আলোচনা শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডজনখানেক সামরিক অভ্যুত্থান দেখা থাইল্যান্ডের জন্য এবারের নির্বাচনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৪ সালে হওয়া সর্বশেষ অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন এখনকার প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ। এবার তিনি আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে লড়ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীবিরোধী মুভ ফরোয়ার্ড ও পুয়ে থাই প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে সাবেক প্রযুক্তি নির্বাহী পিটা লিমজারোয়েনরাট (৪২) নেতৃত্বাধীন মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি সবচেয়ে এগিয়ে আছে, তাদের পরেই আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কন্যা পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন পুয়ে থাই পার্টি। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই দুই দল জান্তার রাজনৈতিক বাহন পালাং প্রচারত ও সেনাবাহিনী সমর্থিত থাই নেশন পার্টির চেয়ে তিন গুণ বেশি আসনে জয়ী হওয়ার পথে।
পিটা এই ফলাফলকে ‘দারুণ উদ্দীপনামূলক’ বলে বর্ণনা করে সরকার গঠন করার সময় তার দল সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলগুলোর বিরোধিতা করে যাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা পুয়ে থাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করার পদক্ষেপ নেবে এবং জোট গঠনের চুক্তি তাদের পরিকল্পনায় আছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।
পুয়ে থাইয়ের নেতা পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা মুভ ফরোয়ার্ডকে তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব। আমরা মুভ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত, এখন আমরা আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছি।’
তবে রয়টার্স বলছে, সাফল্য সত্ত্বেও মুভ ফরোয়ার্ড ও পুয়ে থাই পার্টিকে ক্ষমতায় যেতে আরও লড়াই করতে হতে পারে। দেশটিতে ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর শাসনামলে হওয়া সংবিধানে নির্বাচনবহির্ভূত অনেক কর্র্তৃপক্ষ চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের ক্ষমতায় আরোহণ আটকেও দিতে পারে। ওই সংবিধানে ২৫০ সদস্যের একটি সেনেট বানানো হয়েছে, যার সদস্যরা নতুন প্রধানমন্ত্রী বা সরকার বেছে নিতে ভোট দিতে পারবে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেটের এখনকার সদস্যরা সামরিক বাহিনীপন্থি, তাদের সব সময়ই বর্তমানের সামরিক বাহিনীঘেঁষা সরকারের পক্ষে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বর্তমান থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, সরকারের পরিবর্তন এলে তা সংঘাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচিত ৫০০ এমপি ও সেনেটের ২৫০ সদস্যের ভোটে নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো দল বা জোট যদি সেনেটের প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে সরকার গঠন করতে চায়, তাহলে তাদের নিম্নকক্ষের ৫০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৩৭৬টিতে জিততে হবে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন পুয়ে থাই পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছিল। তবে পিটা লিমজারোয়েনরাট নেতৃত্বাধীন মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি সফলতা ছাড়িয়ে গেছে পুয়ে থাই পার্টিকেও। থাই পার্টির জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি তাদেরও ছাপিয়ে গেছে।
