মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! যদি কোনো ফাসেক (অবিশ্বাসযোগ্য, দুশ্চরিত্র, দুষ্টু) তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে দেখ, এ আশঙ্কায় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হবে। সুরা আল হুজুরাত : ৬
কোরআন মাজিদে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি আনুগত্য করো না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির যে অধিক শপথকারী, লাঞ্ছিত। পেছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়, যে ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, অপরাধী।’ সুরা আল কলম : ১০-১২
কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন স্থানে যারা ‘পেছনে নিন্দাকারী, যে একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়’ তাদের নিন্দা করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে কঠিন সাবধানবাণী শোনানো হয়েছে। এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে একের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ বোখারি : ৬০৫৬
কাজেই কোনো মুমিন-মুসলমানের জন্য শোভন নয় কুৎসাকারী ও নিন্দাকারীর অনুসরণ করার। যারা পরস্পরের সম্পর্ক নষ্ট করে, দুজনের সুসম্পর্ক নষ্ট করে তাদের বিচ্ছিন্ন করে এবং দুই প্রতিবেশীর মাঝে ফেতনার আগুন প্রজ্জ্বালন করে।
ইসলামি স্কলারদের মতে, যার নিকট কুৎসা বর্ণনা করে বলা হয় যে, অমুক তোমার ব্যাপারে এরূপ বলেছে। এমতাবস্থায় তার ওপর ছয়টি কাজ আবশ্যক। সেগুলো হলো
এক. তার কথা বিশ্বাস না করা; কেননা কুৎসাকারী ফাসেক, তাই তার সংবাদ পরিত্যাজ্য।
দুই. এ ধরনের কাজে তাকে বারণ করা, তাকে উপদেশ দেওয়া এবং এমন কাজের নিন্দা করা।
তিন. আল্লাহর ওয়াস্তে তাকে ঘৃণা করা, কেননা সে আল্লাহর নিকট ঘৃণিত। ফলে আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা আবশ্যক।
চার. যার বিষয়ে কথা লাগানো হলো তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ না করা। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা পোষণ হতে বিরত থাক।’ সুরা আল হুজুরাত : ১২
পাঁচ. লাগানো কথার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারি না করা।
ছয়. কুৎসাকারী, চোগলখোরকে যা করতে বারণ করেছে তা নিজে না করা; কাজেই তার কুৎসাকে প্রচার করবে না।’
