সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস

তিন বছরে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০১:৪০ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘মেয়র হিসেবে তিন বছরে ডিএসসিসি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে। তার মধ্য থেকে চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে। পুরো চিত্র তুলে ধরতে হলে আপনাদের হাতে বড় পুস্তক তুলে দেওয়া লাগত। সেজন্য উন্নয়নকাজের সংক্ষিপ্ত অংশ তুলে ধরা হলো।’ গতকাল মঙ্গলবার ডিএসসিসির নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির কাউন্সিলর ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

মেয়র তাপস বলেন, ঢাকার একসময়ের বড় সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল, নর্দমা ও বক্স কালভার্টের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ব্যাপক সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এতে করে নগরের ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে। অতিবৃষ্টি হলেও শহরের কোনো এলাকা জলমগ্নতা সৃষ্টি হয় না।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজস্ব আয় বাড়াতে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। এতে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে রাজস্ব আয়। আগে নিজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হতো না। আর এখন রাজস্ব আয় দিয়ে অনেক উন্নয়নকাজও করছি আমরা। চলতি বছরে রাজস্ব আয় এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার চেষ্টা করছি। মশক নিয়ন্ত্রণেও ব্যাপক উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। যার ফলে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন মশার উপদ্রব অনেকাংশে কম।

তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন বছরে ডিএসসিসি শতাধিক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ৩৪ একরের বেশি জমি উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দখল-বাণিজ্য ঢাকাবাসীর প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করে চলছিল। রাস্তা-মার্কেটের দোকান, অলিগলি, কাঁচাবাজার, নর্দমা এমনকি নদী-নালাও ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি। কিন্তু দখল সাম্রাজ্যকে গুঁড়িয়ে দিতে আমরা অনমনীয়তা প্রদর্শন করেছি। আগামী দিনেও আমরা তা অব্যাহত রাখব।’

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, দখলমুক্তির ধারাবাহিকতায় আমরা দীর্ঘ ৮০ বছর পর সূত্রাপুরের মাইশা খাল, তিন দশক পর রায়সাহেব বাজার মোড়, দুই যুগ পর লক্ষ্মীবাজারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পার্কিংয়ের জায়গা, চার দশক পর ধলপুর ক্লিনার কলোনি থেকে অবৈধ দখলদারের অবসান ঘটিয়েছি। সামষ্টিকভাবে বলতে পারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অটল, অদম্য ও অনমনীয় কর্মোদ্যোগের ফলে সিটি করপোরেশনে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাবাসীর আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির মাধ্যমে করপোরেশন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা হিসেবে যেমন নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে দীর্ঘদিনের দখলদারের পোক্ত সাম্রাজ্য।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘৩৪ বছর পর আমরা রিকশাসহ পাঁচ ধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এ কার্যক্রমে ১ লাখ ৯০ হাজার ২১৭টি অযান্ত্রিক যানবাহনকে ইতিমধ্যে নিবন্ধন এবং সেগুলোর ডিজিটাল নম্বর প্লেট দেওয়া হয়েছে। এ বছর থেকে নিবন্ধিত এসব অযান্ত্রিক যানবাহনকে নবায়ন করা হচ্ছে। আগামী দিনে নিবন্ধনবিহীন কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন আমরা ঢাকা শহরে আর চলতে দেব না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত