নিয়ামক পোশাক শ্রমিক ভোটাররা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০১:৫৮ এএম

গাজীপুর সিটি নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ভোটারদের কদর ততই বাড়ছে। গাজীপুর মহানগরী শিল্পাঞ্চলসমৃদ্ধ হওয়ায় পোশাক শ্রমিকরা দিন দিন ভোটের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা রয়েছে। এছাড়া টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দুটি শিল্পনগরী রয়েছে। এর বাইরে টঙ্গী, বোর্ড বাজার, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর প্রভৃতি এলাকায় পানীয়, টেক্সটাইল, কম্পোজিট, জুতা, যন্ত্রাংশ প্রভৃতির ভারী কারখানা আছে। শ্রমিকরা সাধারণত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন উপজেলার।

সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটার গার্মেন্টস ও কারখানার শ্রমিক। তারা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে মনে করছেন প্রার্থীরা। তাদের ভোটকেন্দ্রে টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র পদে জয়-পরাজয় নির্ধারণে শ্রমিকদের ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। মোট ভোটারের মধ্যে ৪০ শতাংশ স্থানীয় ভোটার হলেও ভাসমান ভোটার রয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ। ভাসমান ভোটারদের অধিকাংশই পেশাজীবী। তাদের মধ্যে গার্মেন্টস ও কারখানার শ্রমিকরাই বেশি। কাজের উদ্দেশে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষ এখানে বসতি গড়ে তুলেছেন, ফলে তাদের সংখ্যা কিছুটা বেশি। তবে শ্রমিকদের ভোট যার বাক্সে বেশি পড়বে তিনিই মেয়র নির্বাচিত হবেন।

একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘গাজীপুরে স্থানীয়দের চেয়ে ভাসমান পেশাজীবী ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রায় ৫ লাখের মতো ভাসমান ও শ্রমিক ভোটার রয়েছে। প্রায় চার লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক। সিটি নির্বাচনে শ্রমিকদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। এ ভোট যেদিকে যাবে সেদিকের পাল্লাই ভারী হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে শ্রমিকদের ভোট বেশ বড় ফ্যাক্টর। তবে শ্রমিকরা ভাসমান, চাকরির সুবাদে তারা হয়তো অন্যত্র চলে গেছে। এমন কিছু ভোটও আছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে কিছু ভোট বাড়বে।’

সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা মনজুর হোসেন বলেন, ‘অনেক শ্রমিক ভোটার আছে যাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ তারা কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার্থে কাছাকাছি এলাকায় ভাড়া থাকে। কর্মস্থল বদলে গেলে তাদের বসবাসের এলাকাও বদলে যায়। এসব ভোটারকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।’ তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে স্থানীয় ভোটার আছে। মেয়র প্রার্থীর জয় অনেকটাই নির্ভর করছে শ্রমিকদের ভোটের ওপর।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব। সরকার পোশাক শ্রমিকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা বাড়িয়েছে। নতুন করে শ্রমিকদের বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় শ্রমিকদের বিপদে-আপদে পাশে থাকে। তাই শ্রমিকদের ভোট আমি প্রত্যাশা করতেই পারি।’ 

স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি সবসময় শ্রমিকদের পাশে থেকেছি। কারখানা-মালিক বেতন দিতে না পারলে আমি শ্রমিক ও মালিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তাই আমি শ্রমিক ভাই-বোনদের কাছে আমার মায়ের জন্য ভোট আশা করছি।’   

আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এ সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন ও মহিলা ভোটার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন।

নির্বাচনে ৪৮০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৩ হাজার ৪৯৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৬ হাজার ৯৯৪ জন পোলিং কর্মকর্তাসহ মোট ১০ হাজার ৯৭১ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা থাকবেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে আট, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭৮ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪৮০টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৯৭টি ভোটকক্ষ থাকবে। এবারই প্রথম এ সিটিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএমে। প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে সিসি ক্যামেরা। এর আগে ২০১৮ সালে জেলা শহরের ছয়টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত