গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে আমার ভালোবাসার জায়গা, নৌকা হচ্ছে আমার একটা শ্রদ্ধার জায়গা। প্রধানমন্ত্রী আমার একটা শ্রদ্ধার জায়গা। কিন্তু এখানে আজমত উল্লা খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আজমত উল্লা আমার ক্ষতি করার মূল পরিকল্পনাকারী। আজমত উল্লা আমার বাসায় এসে খেয়েছে। এ বাসায় বসে বসে আমার ক্ষতিগুলো করেছে। তাই আমার মা বলেছে, “তুমি আজমত উল্লার ভোটে যাইবা না, তুমি আমার ভোটে থাকো।” এখন আপনারাই বলেন, আমি কি আজমত উল্লার সঙ্গে থাকব? না আমার মায়ের পাশে থাকব?’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাসায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর।
মো. জাহাঙ্গীর আলম কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আপনারা গাজীপুরে আসেন দাওয়াত খেয়ে যান, কর্মীদের হুমকি দিয়েন না, হয়রানি করবেন না। নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে এখানে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ভোট করতে, সরকারও চাচ্ছে সুন্দর ভোট হোক। কিন্তু ভোট দিতে গিয়ে যদি এক ভাইয়ের সঙ্গে আরেক ভাইয়ের মারামারি করান, পেশিশক্তি ব্যবহার করেন, তাহলে নির্বাচন না করে সরাসরি ডিক্লার করে নিয়ে যান।’
দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের এক দিন পর মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘আমি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ছয় বছর সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০১৮ সালে এখান থেকে আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। নৌকা প্রতীক নিয়ে আমি নির্বাচন করেছিলাম। একজন মেয়র হিসেবে আওয়ামী লীগসহ নগরের সব মানুষের জন্য কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আমি এ শিক্ষাই পেয়েছি। নীতি এবং আদর্শের জায়গা থেকে আমি পাঁচ বছরের জন্য শপথ নিয়েছিলাম। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমি আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত থেকেও আমি ন্যায়বিচার পাই নাই।’
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আজ গাজীপুরে এসে দেখেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি একসঙ্গে হয়ে গাজীপুরে ভোট করতে আসছে। আমি, আমার মা এবং আওয়ামী লীগ যদি একসঙ্গে কাজ করতাম তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাদের গাজীপুরে আসতে হতো না। প্রশাসনের লোক যারা টেবিল ঘড়ির নির্বাচন করছেন, তাদের বাসায় যাচ্ছেন। হুমকি দিচ্ছেন, এতে কি আপনারা আপনাদের সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন না? আমার মা এসব অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ এখানে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। সন্তান হিসেবে আমি আমার মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমার মা বলেছেন, তুমি যদি অন্যায় কিছু করো এর বিচার এই শহরের মানুষ আগামী ২৫ তারিখ ভোটের মাধ্যমে করবে।’
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গাজীপুর জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। নোটিসের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই বছরের ১৯ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদ জাহাঙ্গীর আলমকে বহিষ্কার করে। পরে শর্ত সাপেক্ষে তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হন এবং মাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেন। জাহাঙ্গীর আলমের প্রার্থিতা ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হলেও মায়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে জাহাঙ্গীর তার মায়ের টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলে ফেরার প্রায় পাঁচ মাস পর দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মায়ের পক্ষে প্রচারণায় নামার অভিযোগে আবারও জাহাঙ্গীরকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
