ভোলার গ্যাস আসছে ঢাকায়

আপডেট : ১৯ মে ২০২৩, ০৫:৫৭ এএম

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস আসছে মূল ভূ-খণ্ডে। সিএনজি আকারে এই গ্যাস তিতাসের আওতাধীন শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হবে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম পড়বে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া গ্যাসের বর্ধিত দর অনুসারে শিল্পে প্রতি ঘনমিটারের দাম এখন ৩০ টাকা। আর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪৩ টাকা।

ভোলার গ্যাস আনতে আগামী রবিবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকোর সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির।

গত ১০ মে ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে তিতাসের শিল্প-কারখানায় সরবরাহের বিষয়ে পরিপত্র জারি করে জ্বালানি বিভাগ। এতে গ্যাসের দাম, বিভিন্ন সংস্থার মার্জিন, গ্যাস সরবরাহকারীর পালনীয় শর্তের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও প্রথম পর্যায়ে ইন্ট্রাকোকে ভোলার গ্যাস সিএনজি হিসেবে সরবরাহের কাজ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে দিনে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনা হবে, পরে ২০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে। ভালুকা-গাজীপুরের জ্বালানি সংকটে পতিত কারখানাগুলো গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাবে।

বিশেষভাবে রূপান্তরিত ট্রাকে সিলিন্ডারে ভরে সড়ক পথে অথবা বার্জে জলপথে এ গ্যাস আনা হবে। দৈনিক ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজিতে পরিণত করে পরিবহনের জন্য ৬০টি কম্প্রেসর ও ২৩৮টি ক্যাসকেড ট্যাংকার প্রয়োজন। ইন্ট্রাকো বিশেষভাবে রূপান্তরিত ট্রাকে সিলিন্ডার বসিয়ে তাতে করে সিএনজি আনবে।

ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে পরিবহনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি গত ৩১ অক্টোবর তাদের প্রতিবেদন পেট্রোবাংলায় জমা দেয়। প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে ভোলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দিনে গ্যাসের চাহিদা ৮৬ এমএমসিএফ। ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১২০ এমএমসিএফ। উদ্বৃত্ত গ্যাসের পরিমাণ ৩৪ এমএমসিএফ।

ওই প্রতিবেদনে প্রতি ঘনমিটারের দাম ৫১.১২ টাকা প্রস্তাব করা হয়। পরে পর্যালোচনা করে প্রতি ঘনমিটারের দাম ৪৭ টাকা ৬০ পয়সায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রতি ঘনমিটার ফিড গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ১৭ টাকা; সিএনজি স্টেশনগুলোর ক্ষেত্রে যা ৩৫ টাকা। এই ১৭ টাকার মধ্যে বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, সুন্দরবন, আরপিজিসিএলসহ বিভিন্ন কোম্পানির মার্জিন, সঞ্চালন ও বিতরণ মাশুল, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল ও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিএনজি স্টেশনগুলো প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করে আট টাকা মার্জিন পায়। ভোলার গ্যাস আনতে ইন্ট্রাকো পাচ্ছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যা হচ্ছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ভোলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৩০-২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্যাস আনতে হবে; তাই তার মার্জিন বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘সিএনজি আকারে ভোলার গ্যাস আনা ভালো উদ্যোগ। অনেক দেশেই এই পদ্ধতি থাকলেও বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর পরিবহন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সিএনজি আকারে গ্যাস পরিবহন করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত