বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী সরকার এখন নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে বেসামাল হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমন্ডনির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখার নিষ্ঠুর পথ অবলম্বন করছে। জেলাসমূহে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশকে বানচালের লক্ষ্যে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত করছে। অবৈধ সরকার যতই ষড়যন্ত্র এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের খড়্গ নামিয়ে আনুক না কেন, জনগণের রোষানল থেকে রেহাই পাবে না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জেলা সমাবেশকে বানচালের লক্ষ্যে সরকারের মদদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনেরনেতাকর্মীদের কোনো মামলা ছাড়াই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করছে। বাড়ি বাড়ি ব্যাপক তল্লাশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব ১৭ মে রাতে জামালপুরে দলের নেতা রেজাউল করিম বুলবুল, গোলাম কিবরিয়া, মামুনুর রশীদ, কামাল হোসেন প্রমুখককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার, নেত্রকোনার সৈয়দ তোফায়েল মীর, রাশেদুল ইসলাম জুয়েলকে গ্রেপ্তারসহ শেরপুরের ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার নিন্দা জানান। অবিলম্বে নেতাদের মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত দাবি করেন তিনি।
নতুন করে আরও দুদিনের কর্মসূচি বিএনপির : এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে আরও দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর বাদে দেশের সব মহানগরীতে দুদিনের এই পদযাত্রা কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে রিজভী বলেন, আগামী ২৩ এবং ২৮ মে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর ছাড়া সব মহানগরীতে অর্থাৎ ১০টা মহানগরীতে পদযাত্রা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবি এবং গায়েবি মামলা, গ্রেপ্তার, পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি হবে। মহানগরীগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রাম।
একই দাবিতে গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ এবং ঢাকার বংশাল বিএনপির ইয়াকুব আলী, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মাসুদ পারভেজ, ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া ও মোকাম ইউনিয়নের এমরান হোসেনকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
