সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, তা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বর্তমান মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার বিকেলে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে নাগরিক সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেবেন। সমাবেশে কী বলবেন আরিফ, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেবেন, নাকি টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আশায় আবার প্রার্থী হবেন। তাই আরিফের ঘোষণার দিকে অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে বিএনপি এবং সিলেট নগরবাসী।
আরিফুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচন নিয়ে ভীষণ চাপে আছেন আরিফ। এই চাপ ঘরে-বাইরে দুই জায়গা থেকেই তাকে ঘিরে ধরেছে। দল চায় তিনি তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেবেন। অন্যদিকে তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকরা যুক্তি দেখাচ্ছেন প্রার্থী হলে তিনি জয়ী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় উভয়সংকটে পড়েছেন আরিফ। তিনি নিজেও সবচেয়ে বেশি চিন্তিত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে। এ কারণে ইভিএমে ভোট গ্রহণের বিরোধিতা করে বারবার বক্তৃতা দিচ্ছেন। বলছেন, ইভিএম নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়েছে। কার ভোট কোথায় যাবে, এটা অনিশ্চিত এমন মন্তব্যও তিনি করেছেন। এ ছাড়া প্রশাসনের দিকেও আঙুল তুলেছেন আরিফ। তিনি বলেছেন, প্রশাসনের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা অনধিকার চর্চা করছেন। তাকে না জানিয়েই তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের দুদিন আগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার অনুসারী নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত আরিফুল হক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলেই অনেকের ধারণা।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশেও আরিফুল হক বক্তব্য দিয়েছেন। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দিন শেষ। এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। আন্দোলনের মুখে অচিরেই সরকারের পতন হবে।’
শনিবারের সমাবেশ নিয়েও ইতিমধ্যে প্রাথমিক ধাক্কা খেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল বিকেলে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ মঞ্চ তৈরি করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। আরিফুল হক যান সেখানে। গিয়ে দেখেন মাঠের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মাঠে শনিবার (আজ) কোনো সমাবেশ তিনি করতে পারবেন না। সমাবেশের অনুমতি নেই। এরপর মাঠের ফটকেই চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন আরিফুল। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘শনিবারের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে তিন দিন আগেই তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে চিঠি দিয়েছেন। এখন অনুমতি না দিলে তিনি এখানেই অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করা হোক। জেলের ভয় দেখিয়ে তাকে আটকানো যাবে না।’ এর ঘণ্টাখানেক পরেই পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
এ ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সুদীপ দাস বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সমাবেশ না করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে পরে তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে আমাকে নানাভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা অনধিকার চর্চা করছেন। তবে এসব চাপে ভেঙে পড়ার লোক নই আমি। নগরবাসী আমার পাশে রয়েছেন। তাদের শক্তি-সমর্থন নিয়েই আমি এগিয়ে যাব। আজকের সমাবেশে সবকিছু স্পষ্ট করব।’
২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুটি নির্বাচনে মেয়র হন আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। পরে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরানকে হারিয়ে পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এবার এখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে।
সিসিক নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৩ মে। আগামী ২১ জুন ভোটগ্রহণ হবে।
