সব সমর্থন হারিয়েছে সরকার : ফখরুল

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ০২:০৮ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশ-বিদেশে সব সমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। এদের আর বেশি দিন সময় নেই। সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা ঝড়ের গতির মতো আন্দোলন করে সরকারকে বিদায় করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১০ দফা দাবিতে গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামলী মাঠে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে মানুষ রাস্তায় নেমেছে তার ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানুষ আজ নেমেছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে গণভবন থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ গ্যাস নাই, পানি নাই, কিন্তু দাম বারবার বৃদ্ধি করছেন। সারের দাম তিন থকে চার গুণ বৃদ্ধি করেছেন। কৃষকেরা কিছু করতে পারছে না। গ্রামে বিদ্যুতের অভাবে পানি সেচ দিতে পারছে না। গণভবন থেকে বেরিয়ে আসুন, মানুষের চোখের ভাষা পড়ুন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আপনি (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন মানব না। আজকে আমরাও পরিষ্কার করে বলছি,তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া জনগণ মানবে না। ২০১৮ সালে সংলাপ করে বলেছিলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না। অথচ তারপরও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অজস্র মামলা-হামলার শিকার হতে হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথম শর্ত দিয়েছি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। সরকারের সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে।’

সরকার আইন করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা কমাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা নতুন আইন করতে যাচ্ছেন। সেটা হলো, ইসি কোনো আসনের নির্বাচন বাতিল করতে পারবে না। তাহলে ইসির স্বাধীনতা থাকল কোথায়? আপনারা জনগণকে বোকা মনে করছেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলতে চাই, সরকারের সময় শেষ। এখন আপনারা তাদের কোনো অন্যায় আদেশ মানবেন না। তাহলে সেটা জনগণের বিরুদ্ধে যাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা এমন কিছু করবেন না, যেন আপনাদের চিহ্নিত হতে হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এদেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। আমরা সংঘাত চাই না। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেই ব্যবস্থা করুন। ’১৮ সালে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, কোনো অনিয়ম হবে না। কিন্তু কী হয়েছিল? দেখলাম ভোটের আগে আমাদের প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে রাতে ভোট করেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার বলছে তারা নাকি ঝড় মোখাকে প্রতিরোধ করেছে। কিন্তু এদেশের জনমানুষের ঝড় কীভাবে থামাবেন, থামাতে পারবেন না।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত