মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পর দুটি বগি ও ইঞ্জিন উদ্ধার করা হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ। গতকাল শনিবার ভোরে দুর্ঘটনার পর আখাউড়া ও কুলাউড়া থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগি ও ইঞ্জিন উদ্ধার করে রেললাইন স্বাভাবিক করা হয়।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কবির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগের আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকল না।
গতকাল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রেললাইনে ভেঙে পড়া গাছে ধাক্কা লেগে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিন ও দুইটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক ওমর ফারুক ও সহকারী পরিচালক সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পেয়ে সিলেটের উদ্দেশে ট্রেন ছেড়ে আসার ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতেই এ ঘটনাটি ঘটে। বনের ভেতরে ঝড়ে একটি গাছ রেললাইনের ওপর পড়ে ছিল। ট্রেনটি সেই গাছে ধাক্কা দিলে ইঞ্জিন ও দুটি বগি পড়ে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই দুর্ঘটনার কারণে সকাল থেকেই সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। ট্রেন দুর্ঘটনার ফলে আন্তঃনগর কালনি ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি যাত্রা বাতিল করা হয়। ওই ৪ ট্রেনের টিকিট ফেরত দিয়ে যাত্রীদের টাকা ফেরত নিতেও বলা হয় বলে জানান কুলাউড়া রেলস্টেশনের মাস্টার মো. রুমান আহমদ।
এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে পরিদর্শনে পাঠায় রেলওয়ে বিভাগ। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল কবিরকে এর প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গতকাল দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঝড়ের কারণে বনের গাছ ভেঙে রেললাইনে পড়েছিল এবং সেই গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ইঞ্জিন ও দুটি বগি ছিটকে পড়ে। কুলাউড়া এবং আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনটি উদ্ধার করে। লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ট্রেনের গতি কম থাকায় কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
