আমদানির খবরে আকস্মিক কমল পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ২১ মে ২০২৩, ১২:৫৪ এএম

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির খবরে এক দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৯ থেকে ১২ টাকা। এক দিন আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল শনিবার তা ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

গতকাল দুপুরে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানেই দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তবে সে তুলনায় ক্রেতা কম। যারা এসেছেন আগের দিনের তুলনায় দাম কম দেখে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

গতকাল হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল (শুক্রবার) বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনলাম ৮০ টাকা কেজি দরে। আজ সেই পেঁয়াজ ৭০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে কমেছে। কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমাদের জন্য ভালো। হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, বাজার কখন বাড়ছে আর কখন কমছে কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। দামের এমন ওঠানামা করার কারণে আমরাও মোকামে পেঁয়াজ কিনতে পারছি না। যে পেঁয়াজ আগের দিন মোকাম থেকে ২৮০০ টাকা মণ কিনে এনেছিলাম, সেই পেঁয়াজ এখন ২২০০ টাকায় নেমেছে।

তিনি বলেন, আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার এমন খবরে এক দিনের ব্যবধানে দাম কমেছে। আজকে আমরা পাইকারিতে ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি খুচরায়, যা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের কোনো কারসাজি নেই।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সেলিম হোসেন বলেন, দেশি কৃষকের স্বার্থরক্ষায় গত ১৫ মার্চের পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। এখন কিন্তু কৃষকের ঘরে তেমন পেঁয়াজ নেই, অধিকাংশ পেঁয়াজ মজুদদারদের ঘরে রয়েছে। যার কারণে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও আগামী ঈদুল আজহায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির দাবি জানিয়ে আসছিলাম। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির কথা জানিয়েছিল। আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছেÑ এ খবরেই কিন্তু দেশে পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছিল। কিন্তু কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় আবারও মজুদদাররা দাম বাড়ান। আবারও আমদানির বিষয়ে খবর আসায় হঠাৎ করেই দাম কমল।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এতে করে হিলি স্থলবন্দরসহ দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির বিষয়ে কথা বলেছেন। চলতি সপ্তাহে সে অনুমতি মিলতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। কেউ যদি অহেতুক কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে সে ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত