সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর, চুরি, আইনজীবীদের হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন পেয়েছেন বিএনপিপন্থি ২৫ আইনজীবী। তাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম। তিনি এক সময় আওয়ামী লীগপন্থি প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গতকাল বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে অভিযুক্তরা হাজির হয়ে জামিন চান। শুনানির পর আদালত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। আদালতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের পক্ষে শুনানিতে আরও অংশ নেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
জামিন পাওয়া উল্লেখযোগ্য আইনজীবীরা হলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল, একই সংগঠনের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল। এছাড়া ‘সুপ্রিম কোর্ট বার সদস্যবৃন্দ’র ব্যানারে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ ও সদস্য সচিব শাহ আহমেদ বাদলও জামিন পেয়েছেন।
আদেশের পর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বারের একজন কর্মচারী মামলা করেছেন। এটি অনাকাক্সিক্ষত ও দুর্ভাগ্যজনক। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে এজন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা সবাই অঙ্গীকার জানাচ্ছি।’
গত মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সমিতির ভবনের দোতলায় সমিতির সম্পাদক আব্দুন নূর দুলালের কক্ষের তিনটি জানালার কাচ ও বাইরের টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। প্রতিহত করতে গেলে দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় নজরুল ইসলাম প্রামাণিক নামে সরকারপন্থি একজন আইনজীবী বেদম মারধরের শিকার হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আইনজীবী সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সহকারী সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. রফিক উল্লাহ বাদী হয়ে পরদিন রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। এতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
