বন্ধু, কী খবর বল

আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ০৭:৪৪ এএম

কবির সুমনের হঠাৎ রাস্তায় গানে দুই বন্ধুর অনেকদিন পর দেখা হয়। তারা পরস্পরের খবর নেন, যোগাযোগ রাখতে না পারার জন্য আক্ষেপ করেন। অবশ্য ভিন্ন উদাহরণও আছে, যেখানে বন্ধুরা যোগাযোগহীন বা কথাহীন না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এমনই এক বন্ধুত্ব নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

যুদ্ধের খবর

ইগর নোভিকভ। বয়স ৪০। একসময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা ছিলেন। রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে শান্ত, নিরিবিলি এক গ্রামে সুদৃশ্য বাড়ি করেছেন। সেখানেই থাকেন তিনি। অবসর সময়ে তিনি বাড়িতেই থাকতে পছন্দ করেন। বাইরে তেমন একটা বের হন না। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে এমনই এক অবসর সময়ে হঠাৎ একটি খবর পান নোভিকভ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া তার দেশে হামলা করতে যাচ্ছে। খবরটি বিশ্বাস না করার উপায় ছিল না তার। কারণ ইউক্রেন সরকারেরই একজন কর্মকর্তা তাকে ওই খবর দেন। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে হামলার খবর পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কেবল জানতেন, দেশের মানুষ এ বিষয়ে এখনো কিছু জানে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন মানুষ কী করেন? বাক্স-পেঁটরা বেঁধে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হয়ে দেশ ছাড়েন, যদি সে সুযোগ তার থাকে। জেলেনস্কির সাবেক উপদেষ্টার হয়তো সে সুযোগ ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রাশিয়া হামলা করবে জানার পর যে খেয়াল তার মাথায় প্রথম উঁকি দেয়, তা হলো তিনি নাপিতের কাছে যাবেন। সেখানে গিয়ে পছন্দমতো চুল কাটবেন। বেশ অদ্ভুত খেয়ালই বটে! কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থাতেই নোভিকভের এক বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ চ্যানেল এমএসএনবিসি একবার তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। মার্কিন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান, অভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক জিমি ফ্যালন পরবর্তী সময়ে তার এক অনুষ্ঠানে সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ দর্শকদের দেখিয়ে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি কবে ইউক্রেনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলাম?’ বিষয়টি হচ্ছে, নোভিকভের চেহারার সঙ্গে ফ্যালনের চেহারায় বেশ মিল আছে। তাই রাশিয়া হামলা করছে জানতে পেরে সাবেক উপদেষ্টার ইচ্ছে হলো, তিনি জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক ফ্যালনের মতো করে চুল কাটবেন। তার এই ইচ্ছের পেছনে যুক্তি ছিল। ব্রিটিশ স্কুলে পড়াশোনা করার কারণে নোভিকভের ইংরেজি উচ্চারণ বেশ ভালো। তার মনে হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হলে ইউক্রেনের হয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যারা কথা বলবেন, তাদের একজন হতে পারেন তিনি। ইউক্রেনীয়দের দুর্দশা সংবাদমাধ্যমে চোস্ত ইংরেজিতে বলার সময় যদি তার ফ্যালনের মতো হেয়ারকাট থাকে, তাহলে তিনি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আরও বেশি আকর্ষণ করতে পারবেন। তার এই যুক্তি শুনে অনেকে হাসাহাসি করতে পারেন, আবার অনেকে এও মনে করতে পারেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা কতটা নিঃশর্ত হলে একজন মানুষের পক্ষে এভাবে ভাবা সম্ভব। যাই হোক, নোভিকভ তার ইচ্ছেকে বাস্তবে রূপ দিতে ল্যাপটপ খুলে বসেন। বাড়ির কাছে এক নাপিতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন।

প্রথম সাক্ষাৎ

নোভিকভ যে নাপিতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন, তার কাছে তিনি আগে কখনো যাননি। নাম ভিতালি ইউরেয়িভিচ। বিকেলে দোকানে গিয়ে তাকে দেখে কিছুটা ভড়কে যান নোভিকভ কারণ ইউরেয়িভিচ বেশ পেশিবহুল এবং বলশালী ব্যক্তি। বাম হাত ভর্তি ট্যাটু। মুখে লম্বা দাড়ি। বিশালদেহী এই ব্যক্তিকে দেখতে নাপিতের চেয়ে পাড়া-মহল্লায় মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে বেড়ানো গ্যাংলিডার লাগে বেশি। ইউরেয়িভিচ আগে রাঁধুনি ছিলেন। এরপর তিনি নাপিত হন। যাই হোক, নোভিকভ দোকানে ঢোকার পর তাকে হুইস্কি পানের আহ্বান জানান ইউরেয়িভিচ। নোভিকভ আহ্বানে সাড়া দেননি। তার মাথায় একাধিক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আসন্ন সর্বনাশ তাকে স্বস্তি দিচ্ছিল না স্বাভাবিকভাবেই। চেয়ারে বসার পর ইউরেয়িভিচ তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কোন কাট করবেন?’ উত্তরে নোভিকভ জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাবেক উপদেষ্টা। এটা শুনে বেশ মজা পান ইউরেয়িভিচ। নোভিকভ বুঝতে পারেন, তার কথা তিনি বিশ্বাস করেননি, উল্টো তাকে পাগল মনে করার সমূহ সম্ভাবনা আছে। পাগল যাতে না ভাবে এজন্য তিনি বলতে শুরু করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্থিতিশীলতা চলাকালে জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন তিনি। নোভিকভ তাকে এও জানান, তিনি জেলেনস্কিকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে ট্রাম্পের কুখ্যাত করমর্দন এড়িয়ে চলবেন। ট্রাম্পের করমর্দনের একটি ভিডিও মোবাইল ফোন বের করে নাপিতকে দেখান সাবেক উপদেষ্টা। ভিডিও দেখে তারা দুজনই হেসে ওঠেন। পরক্ষণেই নোভিকভ গম্ভীর হয়ে পড়েন। আসন্ন রুশ হামলা তাকে পীড়া দিচ্ছিল। অবশ্য তিনি একা উদ্বেগে ছিলেন, তা নয়। ইউরেয়িভিচও চিন্তিত ছিলেন। এটা ঠিক, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালাবেন, সেই খবর তিনি পাননি। কিন্তু ইউরেয়িভিচ জানতেন, ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ রুশ সেনা অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে, এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া ১৬ জানুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করতে পারে। হামলা শেষ পর্যন্ত না হওয়ায় ইউরেয়িভিচের মনে হয়েছে, যুদ্ধ আসলে বাধবে না। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি পুতিন যখন ইউক্রেনের পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী অধ্যুষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেন, তখন যুদ্ধ হবে না এই চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিতে পারেননি ইউরেয়িভিচ। ২১ তারিখের পর তার দোকানে যারাই এসেছেন, তারা সবাই সম্ভাব্য রুশ হামলা নিয়েই আলোচনা করেছেন। তাই জেলেনস্কির সাবেক উপদেষ্টাকে পেয়ে ইউরেয়িভেচের মনে হয়েছে, তিনি হয়তো এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। ইউরেয়িভিচ তার কাছে জানতে চান, ‘আপনার কি মনে হয় হামলা হবে?’ প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সঙ্গে নোভিকভ জানান, ‘রাত তিনটায় হামলা হবে।’ স্বভাবতই এমন উত্তরের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ইউরেয়িভিচ। তার বুক ধরফর করতে থাকে। তিন মিনিট তারা দুজনই চুপ করে ছিলেন। এরপর ইউরেয়িভিচ জানতে চান, ‘আমার এখন কী করা উচিত?’ ‘মূল্যবান জিনিসপত্র, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও দরকারি কাগজপত্র স্যুটকেসে ভরে পালিয়ে যাও’ এ পরামর্শ নাপিতকে দেন সাবেক উপদেষ্টা। পরামর্শ শুনে মনোযোগ দিয়ে মার্কিন টেলিভিশন তারকা জিমি ফ্যালনের মতো করে নোভিকভের চুল কাটেন ইউরেয়িভিচ। এরপর তারা দোকান থেকে বের হয়ে সিগারেট ধরান। দোকানটির চারদিকের উঁচু উঁচু ভবনের দিকে তাকিয়ে ইউরেয়িভিচ প্রশ্ন করেন, ‘কী ধরনের যুদ্ধ হবে? এসব ভবন কি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে?’ কোনো উত্তর দেননি নোভিকভ। সিগারেট খাওয়া শেষ হলে তারা পরস্পরকে শুভকামনা জানান। নোভিকভ বাড়ি ফিরে যান।

উৎকণ্ঠার রাত

নোভিকভকে বিদায় জানানোর পর দোকানের পেছনে ছোট রান্নাঘরে যান ইউরেয়িভিচ। হঠাৎ তিনি টের পান, তার গোঁফে ভেজা ভেজা কী যেন লেগে আছে। হাত দিলে তার আঙুল রক্তে লাল হয়ে যায়। ইউরেয়িভিচ পরে বলেছিলেন, ‘আমি এমন এক ধরনের মানুষ যে খারাপ কিছু হবে জানতে পারলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে না। যা হবে, হোক, টেনশন করে কী হবে এটাই আমার নীতি। কিন্তু সেদিন সাবেক উপদেষ্টা নোভিকভের কাছে রুশ হামলার খবর পেয়ে আমার মতো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাহীন মানুষ স্থির থাকতে পারেনি। মানসিক চাপে পড়ি। রক্তচাপ বেড়ে যায়। ফলে আমার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে।’ যাই হোক, দাড়ি-গোঁফ পরিষ্কার করে দোকান বন্ধ করে দেন ইউরেয়িভিচ। এক বোতল হুইস্কি কেনেন এবং গাড়ির ট্যাঙ্ক ভর্তি করেন। তার বাড়ি কিয়েভের উপকণ্ঠে ব্রোভারি শহরে। বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খবরটা জানান তিনি। নোভিকভের পরামর্শ মেনে কাপড়-চোপড়সহ দরকারি জিনিসপত্র দুটি স্যুটকেসে ভরেন ইউরেয়িভিচ। তিনি জানতেন, সাবেক উপদেষ্টার তথ্য সঠিক। তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বুঝ দিতে থাকেন, কিছুই হবে না। রুশরা যেকোনো সময় হামলা করতে পারে, তা কয়েক মাসের পরিস্থিতি দেখে ধারণা করেছিলেন ইউরেয়িভিচ ও তার স্ত্রী। কিন্তু তারা দুই সন্তানকে নিয়ে কিয়েভেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এটি নিঃসন্দেহে সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যতই রাত তিনটার দিকে এগুতে থাকে, ততই তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে আর সাহস কমতে থাকে। একসময় রাত তিনটা বাজল কিন্তু হামলার কোনো খবর তারা পেলেন না। ক্লান্ত এই দম্পতি ভাবলেন, তথ্য ভুল ছিল। তারা দুজনই হাফ ছেড়ে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এক ঘণ্টা পর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো কিয়েভ ও তার আশপাশের অঞ্চল। ঘুম ভেঙে উঠে ইউরেয়িভিচ বুঝলেন, তথ্যে কেবল এক ঘণ্টার ভুল ছিল। রাত তিনটা নয়, চারটায় হামলার পরিকল্পনা ছিল রাশিয়ার। রুশ হামলা শুরুর কয়েকদিন পর ইউরেয়িভিচের বাবা-মার বাড়ির ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যায়। কিয়েভে থাকা নিরাপদ মনে হয়নি ইউরেয়িভিচের। স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও বোনকে নিয়ে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় চলে যান তিনি। এদিকে কিয়েভে থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে যুদ্ধকবলিত দেশের পরিস্থিতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে থাকেন নোভিকভ।

আবার দেখা

যুদ্ধ শুরুর তিন মাস পর কিয়েভের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেখানে ফিরে যান ইউরেয়িভিচ। দোকান খুলে কাজকর্ম শুরু করেন। তার ফেরার খবর নোভিকভের কানে পৌঁছায়। একদিন চুল কাটাতে হাজির হন ইউরেয়িভিচের দোকানে। প্রথম সাক্ষাতের সময় নোভিকভের মানসিক অবস্থা এতটাই বিক্ষিপ্ত ছিল যে, ইউরেয়িভিচের পুরো নাম জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। যাই হোক, চার মাস পর দুজনের দেখা হলো। নোভিকভের সঙ্গে ফের সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইউরেয়িভিচ বলেন, ‘আমরা দুজনই বেঁচে আছি এর জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ ছিলাম। যুদ্ধ মানুষকে অনেক পাল্টে দেয়। ইউক্রেনের পশ্চিমে কয়েক মাস থাকার সময় আমি সেনা সদস্যদের চুল কেটে দিতাম। পরে যখন তাদের সঙ্গে দেখা হতো, দেখতাম কারও পা নেই, কেউ বা মানসিক সমস্যায় জর্জরিত। তবে তাদের মধ্যে এক ধরনের কৃতজ্ঞতা কাজ করত এই ভেবে যে, তারা অন্তত বেঁচে আছেন। নোভিকভকে দেখে আমার মধ্যেও একই অনুভূতি কাজ করে।’

চুল কাটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর নোভিকভ ও ইউরেয়িভিচ দোকান থেকে বের হয়ে সিগারেট ধরান। গতবারের মতো এবার তারা চুপচাপ ছিলেন না। চার মাসে কে কী দেখেছেন সব একে অপরকে বলতে শুরু করেন। এরপর তাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা হতে থাকে। ভীতিকর কোনো শব্দ শুনলেই নোভিকভকে ফোন করেন ইউরেয়িভিচ। সাবেক উপদেষ্টার তথ্যের ওপর তার এখন অগাধ আস্থা। এই আস্থা দেখে নোভিকভ তাই মজা করে বলেন, ‘আমি তো দেখি তোমার ব্যক্তিগত গোয়েন্দা সংস্থা হয়ে গেছি!’ নোভিকভ আর ইউরেয়িভিচের মধ্যে এখন বেশ ভালো বন্ধুত্ব। যুদ্ধ এমন এক বাস্তবতা যা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষকে এক করে দেয়। যুদ্ধ শেষ হলে যোগাযোগ থাকবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে নোভিকভ বলেন, ‘আমরা আজীবন বন্ধু থাকব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত