বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। কিন্তু রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে দেশটি। যে স্থান দখল করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এককথায় কম প্রবাসী থাকার পরও রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষে অবস্থান করছে দেশটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রার মান বেশি হওয়া ও হুন্ডির প্রভাব কম থাকায় পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছে বাংলাদেশে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক সৌদি আরবে। দেশটিতে ৫৩ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রে এই শ্রমিকের পরিমাণ আড়াই লাখের কিছু বেশি। তবুও রেমিট্যান্স পাঠানোর দিকে শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। আর সবচেয়ে বেশি জনশক্তি থাকা সৌদি আরব নেমেছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় (১০৭ টাকা দরে) ১ লাখ ৭১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশটি থেকে এসেছে ২৮০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৫১ কোটি ডলার।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে এসেছে ২৭৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। অথচ, আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে ৩৪৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। গত বছরের তুলনায় এই বছরের একই সময়ে দেশটিতে ৩৬ শতাংশ বেশি জনশক্তি রপ্তানি হলেও দেশটিতে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, হুন্ডির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশটিতে রেমিট্যান্স প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরিবেশ রয়েছে। যে কারণে হুন্ডির পরিমাণ বাড়ছে। এতে দেশে রেমিট্যান্স কমতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের আয় কম। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠালে তারা ১০৭-৯ টাকা পাচ্ছে। অথচ হুন্ডিতে পাঠালে পাচ্ছে ১১৫-১৮ টাকা। তাই তারা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছে। আর পশ্চিমা দেশগুলোতে কেউ হঠাৎ করে অনেক ডলারের মালিক হয়ে গেলে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে সেখানে হুন্ডির কারবারিরা সুবিধা করতে পারছে না। এ ছাড়া ওই দেশগুলোতে যাওয়া বাংলাদেশিদের অধিকাংশই শিক্ষিত ও সচেতন। তাই তারও রেমিট্যান্স হুন্ডিতে কম পাঠায়।
রেমিট্যান্স সংগ্রহে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে বর্তমানে জনশক্তির পরিমাণ ২৫ লাখের বেশি। কিন্তু চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এ দেশ থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১২৬ কোটি ডলার। চলতি বছর দেশটিতে মাত্র সাড়ে ছয় হাজার জনশক্তি রপ্তানি হলেও রেমিট্যান্স বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।
রেমিট্যান্স সংগ্রহে চতুর্থ অবস্থানে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে অবস্থান করা বাংলাদেশির পরিমাণ সাড়ে ৯ লাখ। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, কর্মরত বাংলাদেশির পরিমাণ মাত্র ১১ হাজার ৩৮৮ জন। অথচ দেশটি থেকে গত মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৬ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এটি ১ কোটি ডলার কম ছিলো। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে শূণ্য দশমিক ৭৬ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করা অন্য দেশটি হচ্ছে, কুয়েত। দেশটিতে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। এসব বাংলাদেশি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১১৯ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৪ শতাংশ।