ব্যর্থ সার্ক চেম্বারের আঞ্চলিক ডায়ালগ বাড়ানো দরকার

আপডেট : ২৫ মে ২০২৩, ১২:১৭ এএম

সার্কভুক্ত দেশগুলোর আঞ্চলিক যোগাযোগ খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সার্কের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ। সার্ক চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ীরাও অনেক পিছিয়ে। দক্ষিণ এশিয়ায় ২০০ কোটি মানুষের বসবাস সত্ত্বেও আন্তরিকতার অভাবে নিজেদের বাণিজ্য সম্ভাবনাকে ব্যর্থতায় রূপ দেওয়া হয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি আলোচনা প্রয়োজন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন : দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সার্কের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন দক্ষিণ এশিয়ার চেম্বার কমার্সগুলোর ব্যবসায়ী নেতারা। সেমিনারে সঞ্চালনা করেন মাশরুর রিয়াজ। এতে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সার্ক চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাসিম বলেন, সার্ক অঞ্চলে অনেক সম্ভাবনা, কিন্তু নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া না থাকায় এসব দেশের চেম্বারগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে। তারা কেন পিছিয়ে তা নিয়ে আরও বিস্তর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতা হলো সবাই শ্রীলঙ্কায় ব্যবসা করতে চায়, পরে বলে রিস্কি। একই কথা পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও। পর্যটন সারা বিশে^র সেরা খাত। কিন্তু এ অঞ্চলে দুই একটি দেশ ছাড়া সবাই পিছিয়ে আছে। গত দশকে সার্ক চেম্বার অব কমার্স ব্যর্থ হয়েছে। তারা আঞ্চলিক যোগাযোগেও ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের এ অঞ্চলে চারটি প্রধান শক্তি থাকার পরও আমরা ব্যর্থ। এ চারটি শক্তি হলো- মানুষ, বাজার, অর্থ, উৎপাদন অঞ্চল। সফলতার জন্য এখন সার্ক কমার্সকে আরও আগ্রাসী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় বসু বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে কোনো পণ্য বাজার পর্যন্ত আসতে অনেক বাধা। আইবিসিসিআইর সহযোগিতায় এ অঞ্চলের ব্যবসা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। যেমন, উত্তর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে ব্যবসা করা কঠিন, কিন্তু সেভেন সিস্টার্সের মাধ্যমে তা করা খুবই সহজ।

সার্ক সিসিআই (পাকিস্তান) এর সহ-সভাপতি আঞ্জুম নিসার বলেন, এ অঞ্চলে বিশে^র চারভাগের একভাগ জনসংখ্যা। বিশে^র অন্য আঞ্চলিক সংস্থাগুলো সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেÑ যেমন ইইউ, আসিয়ানের মতো সংস্থা। দুর্ভাগ্যক্রমে সার্ক এখানে শক্তিশালী হচ্ছে না। অথচ এখানে অনেক সম্ভাবনা। আমাদের উচিত এ সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করা। ডায়ালগই এখানে সম্ভাব্য ইস্যুগুলোকে চিহ্নিত করতে পারে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমরা এখনো সার্কের মতো এত সম্ভাবনাময় একটি জোটকে কাজে লাগাতে পারিনি। পর্যটন, কৃষি, মৎস্য, শিল্প, মানব উন্নয়নসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে বাণিজ্যের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে নিজ নিজ দেশের সরকারকে আরও তৎপর করতে কাজ করতে হবে।

ইউএন ইএসসিএপির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অফিসের ডেপুটি হেড এবং সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের কর্মকর্তা ড. রাজন সুদেশ রতœ অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, সার্ক অঞ্চলের দেশগুলো এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রায় বেশ কিছু জায়গায় ভালো করলেও জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দেশে তেলের দাম, খাবারের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে অস্থিরতা রয়েছে।

তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে দুর্বল মুদ্রার কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেশি। তাছাড়া এদেশগুলোর আঞ্চলিক যোগাযোগের দুর্বলতার পাশাপাশি সাফটা বাণিজ্যেও অনেক পিছিয়ে। সাফটা মাত্র ৫ শতাংশ এরিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, এটিকে এগিয়ে নেওয়া উচিত। এখানে বাণিজ্য ব্যয় কেন এত বেশি তা নিয়েও বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নতুন বাজারে প্রবেশ, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, আন্তঃসীমান্ত ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বাণিজ্যের বাধাসমূহ দূর করার মাধ্যমে সার্কের বাণিজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে কাজ করতে পারে বেসরকারি খাত। সার্ক চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিজনেস টু বিজনেস মিটিং পারস্পরিক বাণিজ্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসসিসিআইকে তার ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি পরিবহন এবং লজিস্টিক অবকাঠামো, বাণিজ্য পদ্ধতির সমন্বয়, ডিজিটাল প্রচার, আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পর্যটনসহ বেসরকারি পরিষেবা খাতের বিদ্যমান সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চাইলে সার্ক চেম্বারের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্ক সিসিআই (শ্রীলঙ্কা)-এর প্রাক্তন সভাপতি রুয়ান এদিরিঙ্গে বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের বিপুল জনশক্তি, বিশাল বাজার, অর্থ এবং পর্যাপ্ত খনিজ সম্পদ ও কাঁচামাল রয়েছে। অথচ এসব সম্পদকে আমরা এখনো কাজে লাগাতে পারিনি। সার্ক চেম্বারের সদস্যদের নিজ নিজ দেশের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত