সুষ্ঠু ভোটে বাধা দিলে ভিসা নয়

আপডেট : ২৫ মে ২০২৩, ০৬:২২ এএম

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ ভিসা নীতির আওতায় বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আমি আজকে একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করছি। এ নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে।’

এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা বা কর্মচারী, সরকার সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইনপ্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ধারা ২১২ (এ)(৩)(সি) এর অধীনে নতুন এ ভিসা নীতি ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্র সরকার গত ৩ মে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার মধ্যে কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতার মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীলসমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখা।’

তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ভোটার, রাজনৈতিক দল, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী, সুশীলসমাজ এবং গণমাধ্যমসহ সবার। যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চায়, তাদের সবাইকে আমাদের সমর্থন দিতে আমি এ নীতি ঘোষণা করছি।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর গতকাল রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ভিসা নীতি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। কারণ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তরিক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ বিষয়ে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, ‘ইটস নট অ্যা স্যাংশন। এ ব্যাপারে বিএনপির উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। নির্বাচনের আগে বা পরে যেকোনো প্রকার সহিংসতা ঘটালে সেটা তাদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’ এ নীতিমালার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আগামীকাল (আজ) জানানো হবে।

অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সমর্থন করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ^াস দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত