‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’ এবং ‘যে সকল সুশীলরা আমাদেরকে বুদ্ধি দিতে যাবেন সেই সকল সুশীলদের বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেবো’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের এমন বক্তব্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নজরে এনেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। গত ২২ মে একটি জাতীয়
দৈনিকে প্রকাশিত এমন বক্তব্য সংবলিত প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত বিচারপতির আপিল বিভাগে উপস্থাপন করেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির এজলাস কক্ষে যান আমীর-উল ইসলাম। এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুর কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ বিএনপিপন্থি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তার সঙ্গে ছিলেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম পত্রিকার প্রতিবেদন পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের জনগণ বিচার বিভাগের দিকে তাকিয়ে আছে।’ প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘ঠিক আছে, আমরা পড়ে দেখি।’
এ বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আমীর-উল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটা যে একটা বড় রকমের অবক্ষয় ঘটেছে, সে ব্যাপারটা নিয়ে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়েছিলাম। শুধু বিচার বিভাগ নয়, সারাদেশের মানুষ এতে মনোক্ষুণœ হয়েছেন। উনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছেন এটা দেখবেন। আমরা প্রত্যাশা করব ফুল বেঞ্চ এটা দেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি নগর ভবন থেকে শুনি যে আমার নেতাকর্মীদের গায়ে হাত দেওয়া হয়। মনটা চায় আবার ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসি। যেখানে মুগুর দেওয়ার সেটাও জানি। একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম।’
তাপস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরা আহত হবে, তাদের গায়ে হাত দেবে, এটা কোনোভাবে সহ্য করা যাবে না।’ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
