চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে গৃহবধূ রোকসানা আক্তারকে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টার ঘটনায় দায় স্বীকার করে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন নিহত রোকসানার ভাশুর গোলাম মোস্তফা (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩০)। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হকের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা। এতে রোকসানা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উঠে আসে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার বিকেলে হত্যার শিকার হন রোকসানা। সীতাকুন্ড মডেল থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ জানান, রোকসানার লাশ উদ্ধারের সময় বিভিন্ন আলামত দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয়ে নিহতের স্বামী আনোয়ার কিবরিয়া, ভাশুর গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। তবে প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন গোলাম মোস্তফা ও স্বপ্না আক্তার। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম তুলে ধরেন।
যেভাবে হত্যা করা হয় রোকসানাকে : তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্পত্তি নিয়ে রোকসানা ও তার ভাশুর গোলাম মোস্তফার মধ্যে কিছুদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দিন আগে মোস্তফা তার আপন ছোট ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার কিবরিয়া ও তার স্ত্রী রোকসানাকে মারার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে রোকসানাকে ও পরে সুযোগ বুঝে আনোয়ারকে মারার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী ঘটনার দিন দোকান থেকে কেরোসিন ও হ্যান্ড গ্লাভস কিনে আনেন মোস্তফা। দুপুর ১২টার দিকে রোকসানার ঘরে প্রবেশ করে কাঠের শক্ত টুকরো দিয়ে মাথার পেছনে তিনটি আঘাত করেন। মাথায় আঘাত পেয়ে রোকসানা খাটে চিৎ হয়ে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর কেরোসিন তেল ও কাপড় নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পাশেই গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। মোস্তফা ও তার স্ত্রীর আশা ছিল আগুনে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে সবাই বিস্ফোরণে মৃত্যু বলে মেনে নেবে। কিন্তু সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়।
সীতাকুন্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ জানান, রোকসানা হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবুল বসর বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হোসনেয়ারাও গতকাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন মুস্তাকিমের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
