উদ্ভিজ্জ না প্রাণিজ কোন প্রোটিন খাবেন

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ১০:৪৬ পিএম

সাধারণত আমাদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় আমিষ থাকে। তা ছাড়া ডাল, ডিম, দুধ ও প্রোটিনেরও জোগান দেয়। প্রোটিন আমাদের শরীরের পুষ্টি ও শক্তি জোগায়, যা একান্ত আবশ্যক ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট। প্রোটিন আমাদের মাসল তৈরি ও মেরামত করে। শরীর প্রোটিন জমিয়ে রাখতে পারে না, তাই সব শারীরবৃত্তীয় কাজকর্ম যথাযথভাবে করার জন্য প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে শরীরে জোগান দিতে হয়। প্রোটিন তৈরি হয় অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে। মোট ২২ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। এর প্রতিটিই শরীরের প্রয়োজন। তার মধ্যে ৯টি অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে কোনোভাবেই তৈরি হতে পারে না, সেগুলোকে বলে এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড। প্রোটিনের যেসব উৎসে এই নয় ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিডেরই অস্তিত্ব আছে, সেগুলো আদর্শ বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে মাছ, ডিম, দুধ, মাংস (লাল ও সাদা) অন্যতম। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের ডাল, ছোলা, কিনওয়া, সোয়া, বিনস, নানা ধরনের বাদাম ইত্যাদি। তবে কিনওয়া আর বাজরা বাদে অধিকাংশ উদ্ভিজ্জ উৎসেই কোনো না কোনো এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুপস্থিতি দেখা যায়।

উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ দুই ধরনের প্রোটিনেরই কিছু গুণের ঘাটতি আছে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে থাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং প্রচুর ফাইবার। ফাইবারের উপস্থিতির কারণে তা হজমে সহায়ক। আবার উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে আয়রন ও ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি থাকে। প্রাণিজ প্রোটিনে কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হয়। যারা অ্যাথলিট বা মাসল মাস বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, তারা সাধারণত প্রাণিজ প্রোটিনের ওপরেই ভরসা রাখেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। তাহলে শরীরও পূর্ণ পুষ্টি পাবে। নিজের শরীর কোন ধরনের প্রোটিন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করছে সেটা নিজেই বুঝতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে নানা ধরনের প্রোটিন অবশ্যই খেয়ে দেখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত