প্রচারে সাড়া ফেলেছেন লুনা আবদুল্লাহ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৩, ০৬:০৮ এএম

আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে নির্বাচনে যুদ্ধে অবতীর্ণ খোকন সেরনিয়াবাত। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সাড়া ফেলেছেন মেয়র প্রার্থীর সহধর্মিণী লুনা আবদুল্লাহ। খোকন সেরনিয়াবাতকে নির্বাচনে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নগরীর মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তিনি। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরেই লুনা আবদুল্লাহ বরিশালে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় থেকেই এই নির্বাচনী কাজে তাকে শামিল হতে দেখা গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোটের প্রচারণার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তার সাবলীল কৌশলী প্রচারণা নির্বাচনী মাঠে আলোড়ন তুলেছে। ভোটের লড়াইয়ে স্বামী খোকন সেরনিয়াবাতের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বরং লড়াই করতে হবে লুনা আবদুল্লাহর সঙ্গে।

লুনা আবদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবারে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে এবং নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য এবার মাঠে নেমেছি। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরব, এই আশা নিয়ে আমি নগরবাসীর কাছে ভোট চাইছি। নগরবাসী আমাকে আস্থা দিয়েছে। তারা নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।’

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার নগরীর হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন মাঠে খোকন সেরনিয়াবাত তার নির্বাচনী প্রচারণায় চালিয়েছেন। এ সময় তিনি নগরীতে ২৪ ঘণ্টা পানি ও বিদ্যুৎ, জন্মনিবন্ধন করতে অতিষ্ঠ নগরবাসীর দুঃখ দুর্দশা দূর করার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমাকে ভোট দিয়ে দেখেন আমি আসলেই কথা রাখি কি না, আমার কথা ও কাজ একই থাকবে ইনশা আল্লাহ’।

সিটি নির্বাচনের নৌকা প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি এই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা আমাদের দেশে রেওয়াজ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী টানা তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে সর্বক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন। তাই জনসাধারণের বিশ্বাস নৌকা জিতলে উন্নয়ন হবে। এই উন্নয়নের স্বার্থে নগরবাসী নৌকার সঙ্গে রয়েছেন।’ অন্যদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর বটতলা এলাকায় গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। এ সময় নগরবাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও লিফলেট বিতরণকালে বিসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নগর জাপার সদস্যসচিব তাপস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানের নির্বাচন পরিস্থিতি একপক্ষীয়। প্রথম থেকেই আমি খেয়াল করছি যে এখানে যিনি রিটার্নিং অফিসার আছে, তিনি সম্পূর্ণভাবে এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তিনি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করছে। প্রতীক বরাদ্দের আগেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মার্কা দিয়ে পোস্টার-লিফলেট ছাপিয়েছেন, সেগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তার চোখে লাগে না। এই বিষয়গুলো তাকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা আমলে নেন নি।’

এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম নগরীর বাংলা বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগ-পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত নই।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশনের পঞ্চম পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এবার বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ‘বিশেষ বর্ধিত সভা’ করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির (বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন) টিম লিডার খোকন সেরনিয়াবাতের ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ওই সভায় উপস্থিত হননি মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত।

বর্ধিত সভার শুভেচ্ছা বক্তব্যে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমার ছোট ভাই যিনি ১৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ খোকন সেরনিয়াবাতকে মনোনীত করেছেন। আমরা স্বাগতম জানাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত