যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রভাবশালী কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার ১০০ বছর পূর্ণ করেছেন। শনিবার (২৭ মে) নিউইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবে শতবর্ষ পূর্ণ করার মুহূর্তটি উদ্যাপন করেন কিসিঞ্জার। এদিন জন্মদিনের কেকের ওপর জ্বালানো মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভান তিনি।
কিসিঞ্জারের শতবর্ষ পালনের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত মহলে উৎসবের আমেজ বয়ে যায়। জানিয়ে রাখা ভালো, নিউইয়র্ক শহরেই বেড়ে ওঠেন কিসিঞ্জার। জন্মেছিলেন ১৯২৩ সালের ২৭ মে, জার্মানির এক ইহুদি পরিবারে। পরে তার পরিবার পালিয়ে নিউইয়র্কে যায়।
সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কিসিঞ্জার। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অনেকেই নানা বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তাকে যুদ্ধাপরাধী বলে অভিযুক্ত করে থাকেন। তবে বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ-সংঘাতের ‘কারিগর’ কিসিঞ্জারকে কখনও সেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সম্প্রসারণ, চিলি ও আর্জেন্টিনায় সামরিক অভ্যুত্থানে সমর্থন, ১৯৭৫ সালে পূর্ব তিমুরে ইন্দোনেশিয়ার রক্তক্ষয়ী অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতার বিষয়ে চোখ বন্ধ রাখা—এসব অভিযোগ রয়েছে কিসিঞ্জারের বিরুদ্ধে।
চীনের শুভেচ্ছা
শতবর্ষ পালনের মুহূর্তে হেনরি কিসিঞ্জারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে চীন। শুক্রবার কিসিঞ্জারের সঙ্গে দেখা করে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জি ফেং।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের তিন দিন পরই কানেক্টিকাট অঙ্গরাজ্যের কেন্ট শহরে কিসিঞ্জারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন চীনের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি ফেং।
শতবর্ষে পা রাখা কিসিঞ্জারের ক্যারিয়ারজুড়ে বড় স্থান দখল করে রেখেছে চীন। কিসিঞ্জারের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্তরের দশকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। এরপর থেকেই চীনের বাঘা বাঘা নেতাদের সঙ্গে এবং জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন কিসিঞ্জার।
