গত বছর সাফ- এরপর আর খেলাই ছিল না নারী ফুটবলে। লম্বা সময় বসে থেকে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবলাররা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পাশাপাশি খেলতে না পেরে নিজেদের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কায় পড়েছিলেন অনেকে। প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের পর বসে থাকা একরকম হতাশার। সেই হতাশা থেকেই নারী ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন সম্প্রতি অবসর ঘোষণা করেছেন। ফুটবলারদের এমন অপ্রত্যাশিত বিদায়ের দায়ভার বাফুফেকে দিচ্ছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। আক্ষেপ করলেন নারী ফুটবলের জাগরণ কাজে লাগাতে না পারাকে।
নারী ফুটবল দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ায় অবসর নিয়েছিলেন আনুচিং মগিনি ও সাজেদা খাতুন। দুই দিন আগে বাফুফের ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন সিরাত জাহান স্বপ্না। এছাড়া ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনও জাতীয় দল ছেড়েছেন। একের পর এক অপ্রত্যাশিত অবসরের ঘটনায় বিস্মিত জাহিদ আহসান রাসেল জানান, ‘আমরা ফুটবল ফেডারেশনের কাছে জানতে চাইব যে আসলে সমস্যাটা কোথায়। কেন এ ধরনের ঘটনা একের পর এক হচ্ছে। এটা নিয়ে আসলে সবাই চিন্তিত। কারণ নারী ফুটবলার যাদের আমরা সম্পদ মনে করছি তারা এভাবে অবসরে যাচ্ছে এটা যেন না হয় সেদিকে বাফুফের সঙ্গে আলোচনা করব।’
আক্ষেপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারী ফুটবলে এত বড় একটা জাগরণ হয়েছে। এই সময়ে বাফুফে এই ব্যাপারটা কাজে লাগাতে পারল না। এটা আমি তাদের ব্যর্থতাই মনে করি। এই সময়ে অনেক স্পন্সর আগ্রহী ছিল যারা নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করবে। কেন বাফুফে এত কিছুর পরও নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করল না এটা আসলে বাফুফেরই তো ব্যর্থতা। বাফুফের উচিত ছিল নারী ফুটবল নিয়ে আরও একটু আগ্রহী হয়ে কাজ করা।’
এছাড়া নারী জাতীয় দলের কোনো টুর্নামেন্ট না থাকাকে সরাসরি বাফুফের দায় দেখছেন রাসেল, ‘আমাদের বাফুফের যিনি প্রেসিডেন্ট উনি কিন্তু সাফ-এরও প্রেসিডেন্ট। তো সাফ পর্যায়ে জাতীয় দলের যে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা একেবারে অসম্ভব নয়। আমার মনে হয় এখানে আন্তরিকতার কিছু অভাব আছে। মেয়েদের এটা আসলে আমার আশার জায়গা। তাদের অবহেলা করা কোনোভাবেই উচিত হচ্ছে না।’
