মোমেন-ত্বাহা বৈঠক

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার অনুরোধ

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ০৫:৩৯ এএম

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে মুসলিম দেশগুলোকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ওআইসি মহাসচিব হোসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ওআইসি মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মামলা চালানোর জন্য গাম্বিয়াকে তহবিল দিয়ে সহায়তা করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা ওআইসির সব সদস্য রাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে তাদের (গাম্বিয়া) সঙ্গে যোগ দিতে এবং ওআইসির সৃষ্ট এই তহবিলে সহায়তা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এ মামলাটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক প্রশ্নের জবাবে হোসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা এ কথা জানান। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরকালে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত মামাদু তাঙ্গারা এ বিষয়ে আবারও অনুরোধ জানান ঢাকাকে।

এসব আলোচনার মধ্যে ইব্রাহিম ত্বাহা রবিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করেন তারা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের করা গাম্বিয়ার মামলার খরচ চালাতে সদস্য দেশগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওআইসি মহাসচিব।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) মামলা করে আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার খরচ চালিয়ে নিতে মুসলিম দেশগুলোকে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে দেশটি।

রোহিঙ্গারা মজলুম, তারা ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্যে আছে জানিয়ে ওআইস মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের মানবিক সহায়তা কমে আসছে। তাদেরও নিরাপত্তা, শান্তি ও উন্নত জীবন যাপনের অধিকার আছে। যে কারণে ওআইসির মহাসচিব হিসেবে সদস্য দেশগুলোর কাছে চিঠি লিখেছি। তাদের উৎসাহিত করছি রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে।’

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ওআইসির সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান হোসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা। এ ছাড়া, বিশ্বব্যাপী মুসলিম নির্যাতন ও ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে এক জোট হতে মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি মহাসচিবের সঙ্গে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুসলিমদের সংহত হতে হবে, তাদের অনেক সম্পদ আছে এবং সেগুলো নিজেদের কাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওআইসি মহাসচিব বলেন, ‘ওআইসির অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

রোহিঙ্গা তহবিল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রধান কাজটি করে জাতিসংঘ। তহবিল সংকট নিয়ে ওআইসিরও উদ্বেগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে জন্য আমি ওআইসির মহাসচিব হিসেবে সদস্য দেশগুলোকে চিঠি দিয়েছি রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য। রোহিঙ্গা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মামলা করেছে গাম্বিয়া এবং দেশটি বড় বা ধনী দেশ নয়। এ জন্য আমরা সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানাই গাম্বিয়াকে সহযোগিতা এবং তহবিলে অর্থ দেওয়ার জন্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত