সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের খুকনি আটারদাগ গ্রামের আবদুল মোতালেব (৩৫) নামে এক মানসিক রোগীর পেটের ভেতর থেকে কোনো ধরনের অপারেশন ছাড়াই এন্ডোস্কোপির সাহায্যে ১৫টি আস্ত কলম বের করা হয়েছে। আর এ কাজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক।
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি জানাজানির পর থেকে হইচই পড়ে যায়। আর ওই দুই সফল চিকিৎসক হলেন সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহিদুল ইসলাম ও কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুল ইসলাম খান। তারা কোনো অপারেশন ছাড়াই শুধু এন্ডোস্কোপির সাহায্যে কলমগুলো বের করতে সক্ষম হন। এ বিষয়ে আবদুল মোতালেবের মা লাইলী খাতুন বলেন, তার ছেলে মোতালেব খুব ভালো ছাত্র ছিল। দুটি লেটার মার্ক নিয়ে এসএসসি পাস করে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। এরপর সঙ্গদোষে সে আস্তে আস্তে মাদকাসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এরপর থেকে পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানোর সময় কুড়িয়ে পাওয়া কলমগুলো খাদ্য মনে করে খেয়ে ফেলে। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এক বছর আগে তার শরীরে জ্বর ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। অনেক চিকিৎসার পরও তা ভালো হচ্ছিল না। অবশেষে গত ১৬ মে তাকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। এখানে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অসুখের কারণ ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতর থেকে বিনা অপারেশনে কলমগুলো বের করেন।
সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, মোতালেব হোসেন প্রথমে পেটে ব্যথা নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। মেডিসিন ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করেও পেটে কী সমস্যা শনাক্ত করতে পারছিলেন না। তখন রোগীকে আমার কাছে পাঠান। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পরীক্ষা করে তার পেটের ভেতর ১৫টি কলম দেখে প্রথমে চমকে যাই। এটা কীভাবে সম্ভব। পরে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই আমরা কলমগুলো বের করার সিদ্ধান্ত নিই। তিনি আরও বলেন, কাজটি আমাদের জন্য দারুণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কলমগুলো একে একে পাকস্থলীতে সেট হয়ে গিয়েছিল। আমাদের চিন্তা ছিল কলমগুলো যেন কোনোভাবেই শ্বাসনালিতে গিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে না যায়। এ ছাড়া রক্তক্ষরণের একটা চিন্তাও মাথায় ছিল। অতঃপর প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আমরা কলমগুলো বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম হই।
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অপারেশন ছাড়াই এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে তার পেটের ভেতর থেকে একে একে ১৫টি আস্ত কলম বের করে আনি। বর্তমানে রোগীটি সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সুস্থ আছেন। তিনি আরও বলেন, এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে মানুষের পেট থেকে কলম বের করার মতো ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। তাও আবার একটি বা দুটি নয়, ১৫টি কলম। এর আগে ঢাকা মেডিকেলে এক ব্যক্তির পেট থেকে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে একটি মোবাইল বের করেছেন চিকিৎসকরা।
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এমন সাফল্য এটাই প্রথম। আমরা অত্যাধুনিক ভিডিও এন্ডোস্কোপি মেশিনের মাধ্যমে এবং আমাদের দক্ষ ডাক্তার দ্বারা অপারেশন ছাড়াই শুধু এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পেট থেকে ১৫টি কলম বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। শুধু এটাই নয়, আমরা বিনা অপারেশনে পেটের পাথর, কিডনিতে পাথর থেকে শুরু করে অনেক কিছুই অপারেশন ছাড়াই সেগুলো অপসারণের কাজ করে যাচ্ছি।
