ওবায়দুল কাদের বললেন

ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ০৫:৪৭ এএম

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো অবস্থাতেই আক্রমণকারী না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমরা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা বাংলাদেশে প্রথম ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের জন্য আইন করে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করেছি। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের ক্ষেত্র আমরা প্রস্তুত করছি এবং প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

গতকাল রবিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এক যৌথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন ভিসানীতিতে বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করার অন্তরায়, কেউ যেন বাধা না দিতে পারে এ কারণে মার্কিন ভিসানীতি। এ কারণে আমাদের মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, যারা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসানীতি প্রয়োগ করবে। অথচ তারা ঘোষণা করে বাধা দিচ্ছে। কেরানীগঞ্জে যে নাটক সাজাল, আওয়ামী লীগের অফিস আক্রমণ করে ভাঙচুর করল, নাটক সাজিয়ে ইচ্ছা করে ওখানে গোলমালের সৃষ্টি করল। খাগড়াছড়িতেও তাই, আমাদের অনেক কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে। তাদের এটা লক্ষ্য, অথচ তারা বোঝাতে চায় যে আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে। সেজন্য আপনাদের বলি আমাদের শান্তি সমাবেশ নির্বাচন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ থাকুক।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেত্রীর নির্দেশ, সব জেলা, মহানগর, ইউনিয়ন, প্রয়োজনে ওয়ার্ড পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। আপনাদের আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যেহেতু আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, সেজন্য এ শান্তি সমাবেশ। কারও সঙ্গে পাল্টাপাল্টি মিটিং, সমাবেশ করা আমাদের রাজনীতি নয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই আক্রমণকারী হবেন না। কারণ বিএনপি এখন যেকোনোভাবে দেখাতে চায় যে আমরা আক্রমণকারী। কাজেই কোনো অবস্থাতেই মাথা গরম করবেন না। বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সঙ্গেই আছে। গাজীপুরে আমরা কিছু ভোটে হেরে গেছি, কিন্তু নির্বাচন গণতান্ত্রিক, অবাধ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে কেউ কিছু বলতে পারেনি। আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে জয়ী করেছি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করে। সামনেও বরিশাল, খুলনা এবং রাজশাহীতে ইলেকশন আছে, এ নির্বাচনগুলোও অবাধ এবং সুষ্ঠু হবে।

বিএনপি আমলের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি। এ অফিসের সামনে ২১ ফেব্রুয়ারির আলোচনা আমাদের করতে দেয়নি। এ অফিসের সামনে মতিয়া চৌধুরীকে, মোহাম্মদ নাছিমকে পেটানো হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বারবার নির্যাতন-অত্যাচার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজেরা নিজেদের সঙ্গে লড়াই করলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপির সরকার তাড়ানোর হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারকে তাড়াতে হবে, দেখি কে কাকে তাড়ায়। সরকারকে তাড়াবেন বাংলাদেশের মানুষ বুঝিয়ে দেবে। ভোটে বাধা দিতে আসেন, ভালো করে বুঝিয়ে দেবে।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুরসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত