যমুনা নদীর প্রশস্ততা কমানোর বিষয়ে গৃহীত প্রকল্পের নথিপত্র দেখতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। একটি রিটের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ আদেশ দেয়।
আগামী ১১ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। গত ১২ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘যমুনা নদী ছোট করার চিন্তা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অরবিন্দ কুমার রায়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যমুনা নদী প্রতি বছর বড় হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার সময় নদীটির প্রশস্ততা ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার হয়ে যায়। এত বড় নদীর প্রয়োজন নেই। তাই এটির প্রশস্ততা সাড়ে ৬ কিলোমিটারে কমানো হবে।’
দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহের অন্যতম উৎস যমুনাকে ছোট করার এই আইডিয়া এসেছে খোদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের মাথা থেকে। এজন্য তারা ১১শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও প্রণয়ন করেছেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যখন ব্যয় সংকোচনের কথা বলা হচ্ছে, তখন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি নিয়েছে কোনো গবেষণা ছাড়াই। বিশেষজ্ঞরা একে বিরল ও অবাস্তব বলছেন।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যমুনা নদীকে ছোট করার প্রকল্প গ্রহণের আইনগত সুযোগ নেই। যারা এই প্রকল্প নিয়েছেন তারা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আদালত প্রকল্পের সব নথি দেখতে চেয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইনজীবী অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, ‘আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। আমরা সময় চেয়ে বলেছি, ‘পরবর্তী শুনানির আগেই সব নথি দাখিল করা হবে।’
