প্রাথমিক জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ চ্যালেঞ্জে পড়েছে

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৫:৫৮ এএম

‘সমন্বিত মহাপরিকল্পনানুসারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতের উন্নত অবকাঠামো তৈরিতে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। স্মার্ট গ্রিড, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উৎপাদন সিস্টেমে এই বিনিয়োগ করা হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স (এফইআরবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা) এতে সহায়তা করে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে। সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা পরিকল্পনামাফিক চললেও প্রাথমিক জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ চ্যালেঞ্জে পড়েছে। আগামী দুই বছরে আরও ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা হবে। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসবে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। পিএসসি হালনাগাদ ও আকর্ষণীয় করা হচ্ছে। ট্রান্সমিশন বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে। বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। ‘গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে, আশা করি আরও গ্যাস পাওয়া যাবে। ভোলার গ্যাস মূলধারায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, কভিট ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশে^র মন্দার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। দেশে কয়লা নিয়ে যে সংকট চলছে সেটা থাকবে না। আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের যেসব বকেয়া রয়েছে সেগুলোও তারা পাবেন। তবে সবকিছুর জন্য একটু ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ^বাজারে এখন তেলের দাম অনেক কমেছে। কয়লার দামও কমছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ঠিক রেখে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক রিসান নসরুল্লাহর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিপপার ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হোসেন। তিনি তার প্রবন্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি আমদানিতে আর্থিক সংকট, প্রাথমিক জ্বালানিতে বিভিন্ন করহার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা খুবই “এগ্রেসিভ”। বর্তমানে দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব বলে আশা করি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এখন অনেক কম। তার পরও বর্তমানে জ্বালানি নিয়ে আমাদের দেশে কেন এই দূর অবস্থা তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বর্তমান দাম পড়ছে ৬ থেকে ৮ টাকা। দিনে যখন আমরা লোডশেডিং করছি তখন এই বিদ্যুৎকে কাজে লাগাতে পারি। বেজ লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট বা বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যদি সোলার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাহলে তা হবে আদর্শ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। অথচ তা করা হয়নি।

প্রাথমিক জ্বালানিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া না হলে বিদ্যুৎ নিয়ে যে সংকট চলছে তার সমাধান হবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশি কোম্পানি শেভরনের গ্যাসক্ষেত্রে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ আছে। সেখান থেকে তারা প্রতিদিন ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। অথচ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রে দুই হাজার ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকলেও প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে মাত্র ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। একইভাবে ২০১৮ সালে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পরও মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের অভাবে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সেখান থেকে উত্তোলন করা যাচ্ছে না।

‘আমরা নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পিছিয়ে আবার যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে সেটাকেও কাজে লাগাচ্ছি না। অথচ পুরনো গ্যাসকূপ থেকে কীভাবে গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানো যায় তা ২০১০ সালেই বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের বলেছে। তার পরও কোনো অগ্রগতি নেই।’

এফইআরবির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিপপার সভাপতি ফয়সাল খান, আইফার এনার্জি ফাইন্যান্স এনালিস্ট শফিকুল আলম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত