ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ, জুয়া খেলায় অভ্যস্ত রাজউক কর্মচারী

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ১১:০৬ পিএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দেবাশীষ কুমার সাহার (৪৮) ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক নারী। সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে রাজউকে যাওয়া নারীদের টার্গেট করে সে। বিশেষ করে সহজ-সরল নারীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করে।

অনেক নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণও করেছে দেবাশীষ। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি সাবেক সচিব কন্যাও। দেবাশীষের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) অসংখ্য অভিযোগ আসে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘রাজউক কর্মচারী দেবাশীষ অনেক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। কিছুদিন আগেও এক ধর্ষণ মামলায় সে জেল খেটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি কিছুদিন আগে সে নেপালে জুয়া খেলতে যায়। সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে তার কাছে অনেক ডলার থাকায় নেপালের বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়। ২৩ দিন জেল খেটে সেখানে জরিমানা না দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। আমরা শুনেছি সে মাঝে-মধ্যে নেপালে যায় কিন্তু রাজউক থেকে কোনো অনুমতি নেয় না।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক এক সচিবের মেয়েকে জিম্মি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে দেবাশীষ। ভুক্তভোগীর বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের জমি ও প্লট সংক্রান্ত কাজে দেবাশীষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ভিন্ন সময় রাজউকের ঝিলমিল এবং পূর্বাচলে তিনটি প্লট ভুক্তভোগীকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেবাশীষ আত্মসাৎ করে। এ টাকা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে তার নিজের নামের ২টি ফ্ল্যাট , ১৫০ ভরি স্বর্ণ, একটি প্লট, ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র, এলিয়ন প্রাইভেটকার গাড়ি বিক্রি করে এ টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়।

ভুক্তভোগী নারী গণমাধ্যমকে জানান, ২০০৮ সালে দেবাশীষের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে জালে আটকে ফেলে দেবাশীষ। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স করায় সে। দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেখানেও সংসার ভাঙতে উঠে-পড়ে লেগেছে।

ডিবি জানিয়েছে, দেবাশীষ রাজউকের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হওয়ায় তার পরিচিতি ব্যবহার করে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের রাজউকের বিভিন্ন প্লট কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করিয়ে নগদ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে প্রতারিত ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী সাংবাদিক, ছাত্রলীগ নেতাদের নাম ব্যবহার করার হুমকি দেয়।

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, দেবাশীষ ঢাকার রাজউকে কর্মরত থাকার সুবাদে নিয়মিত নানা লোকদের সঙ্গে পরিচয় হতে থাকে। ক্রমাগত তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী সখ্য গড়ে তুলতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের সরলতার সুযোগে দেবাশীষ পরিচিত লোকের বাসা-বাড়িতে যাতায়াত করার সুযোগ নিত। সখ্য গভীর করতে পরিচিত নানান লোকের বাসা-বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করে সম্পর্ক গভীর করত। বিত্তশালী এবং অভিবাবকহীনদের সরলতার, অসহায়ত্বের সুযোগে তাদের সম্পত্তি নানা তথ্য হাতিয়ে নিত। তাদের রাজউকের নানান স্থানে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করত দেবাশীষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত