মুডিস রেটিংয়ে ঋণমান কমল বাংলাদেশের

আপডেট : ৩১ মে ২০২৩, ০২:২১ এএম

বিদেশি মুদ্রার সংকট থাকায় বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান মুডিস। সংস্থাটির ভাষ্য, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উঁচুমাত্রার দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও প্রকাশ পেয়েছে।

তবে ঋণমান কমালেও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে মনে করে সংস্থাটি। এর মানে ঋণ যোগ্যতা বা আর্থিক বাধ্যবাধকতা মেটানোর ক্ষমতাতে বাংলাদেশের কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত ডিসেম্বরে ঋণমান কমানোর বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। গতকাল সেই পূর্বাভাসের প্রতিফলন ঘটল।

মুডিসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান ঋণমান কমে দাঁড়িয়েছে বি১-এ। আগে এটি বিএ৩ ছিল। চলমান সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়া এ পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। তবে বাংলাদেশের জন্য মুডিস তাদের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রেখেছে। যদিও স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিংয়ের ক্ষেত্রে ‘নট প্রাইম’ মান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে তারা।

মুডিসের র‌্যাংকিং কমার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে র‌্যাংকিং যত কমবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে তত বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বৈশিক লেনদেন ব্যয় বেড়ে যাবে।

মুডিস বলেছে, পরিস্থিতি খানিকটা সহজ হলেও বাংলাদেশে ডলার-সংকট চলমান এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে যাচ্ছে, যা দেশটির বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আমদানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। যার ফলাফল হিসেবে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি। একাধিক বিনিময় হার চালু এবং সুদের হার ঠিক করে দেওয়ার মতো অপ্রচলিত যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও দেশটি ফিরে আসেনি। এসব পদক্ষেপ বিভিন্ন ধরনের বিকৃতি ঘটাচ্ছে।

এ ছাড়া অর্থনীতির আকারের তুলনায় কম রাজস্ব আদায়ের ফলে সরকারের পছন্দসই নীতি গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে টাকার অবমূল্যায়ন ও স্বল্প সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ফলে সুদবাবদ সরকারকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, যা তার ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুডিস আশা করছে, বিদেশি অর্থায়ন বৈদেশিক ও রাজস্বসংক্রান্ত চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। তবে মহামারীর আগের তুলনায় বৈদেশিক পরিস্থিতি দুর্বল থাকবে এবং উঁচুমাত্রার ঋণের কারণে রাজস্ব পরিস্থিতি দুর্বল হবে। বিশেষ করে মুডিস মনে করছে, যেসব রাজস্ব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন হতে অনেক বছর লেগে যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির পূর্বাভাস স্থিতিশীল রাখার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুডিস বলেছে, দেশটি কম সুদে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্থায়ন ও সহায়তা পেয়ে যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক ও রাজস্ব খাতে চাপ হালকা হবে বলে তারা মনে করছে। বাংলাদেশের ঋণভার একইরকম অন্যান্য দেশের তুলনায় মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে এবং কম সুদে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণ নেওয়ার কারণে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে বলে মুডিস মনে করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত