কাতার থেকে বছরে ১৫ লাখ টন এলএনজি আনতে চুক্তি

আপডেট : ০২ জুন ২০২৩, ০৬:৫৬ এএম

দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে কাতার থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত আরও ১৫ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২৬ সাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে, যা একটানা চলবে ২০৪০ সাল পর্যন্ত।

কাতারের দোহায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার ও কাতার এনার্জি ট্রেডিংয়ের পক্ষে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আহমাদ আল হোসাইনি সই করেন। বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালে ১২ কার্গো এলএনজি (অতিরিক্ত ১২ কার্গো আমদানির সুযোগসহ) এবং ২০২৭ সালে ২৪ কার্গো এলএনজি (প্রায় ১.৫ এমটিপিএ এলএনজির সমতুল্য) বাংলাদেশে আসবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কাতার সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এবং কাতারের মধ্যকার এ জ¦ালানি মৈত্রী, দুই দেশের বিরাজমান বন্ধুত্বে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশ্বজুড়ে জ¦ালানি অস্থিরতার এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক অর্জন।

অনুষ্ঠানে কাতারের জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন সেরিদা আল কাবি বলেন, ‘বাংলাদেশে বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হতে পেরে আমরা গৌরবান্বিত। সরবরাহকৃত এলএনজি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।’

কাতার থেকে এলএনজি আমদানির চুক্তি করতে গত বুধবার বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কাতারের উদ্দেশে রওনা দেয়। জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাও এ সফরে সঙ্গী হয়েছেন।

সম্প্রতি কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানির আমন্ত্রণে কাতার ইকোনমিক ফোরাম-২০২৩-এ যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে দোহা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ওই সফরে জ্বালানি নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে কাতারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও এলএনজি আমদানির প্রস্তাব দিলে ইতিবাচক সাড়া দেয় কাতার।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, কাতারের যে ক্ষেত্র থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করবে সেখানে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে চুক্তি করে ফেলেছে। আগামী ২০২৬ সাল থেকে ওই ক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ খুব দ্রুততার সঙ্গে এ চুক্তি সই করল। দেরি করলে কাতার থেকে এলএনজি আনতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো বাংলাদেশের।

বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশে জ¦ালানি বিশেষ করে গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩১২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। যার মধ্যে ৯৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসই আমদানিকৃত। গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় আড়াইহাজার মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ২০১৭ সালে প্রথম চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। চলবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১.৮ থেকে ২.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করবে কাতারের রাস লাফান লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত