যে কোনো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের হয়ে থাকে। ক্লাব ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় ইউরোপে কাটিয়ে শেষ লগ্নে সৌদি আরবে পাড়ি দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্যও একই ছিল ব্যপারটা। নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল তার জন্য। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে জয় করার প্রত্যয় ছিল পর্তুগিজ সুপারস্টারের মনে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর গত জানুয়ারিতে রিয়াদের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন রোনালদো। যখন ইউরোপে খেলতেন, তখন ফুটবল ক্লাবগুলোর অনুশীলন সূচি থাকে সাধারণত সকালে। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে রোনালদো দেখলেন, অনুশীলন হয় বিকেলে বা সন্ধ্যায়। আর রোজার মাসে সেটা শুরু হয় রাত ১০টা। এমনটা দেখে বেশ অবাকই হয়েছিলেন রোনালদো।
সদ্যই সৌদির ফুটবলে নিজের প্রথম মৌসুম শেষ করা রোনালদো নিজের এসব চ্যালেঞ্জ জয় নিয়ে কথা বলেছেন। এসপিএলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইউরোপে আমরা সাধারণত অনুশীলন করি সকালে। এখানে অনুশীলন হয় বিকেলে বা সন্ধ্যায়, কিংবা রাতে। রমজান যখন শুরু হলো, আমাদের অনুশীলন ছিল রাত ১০টায়! খুবই অদ্ভুত ব্যাপার ছিল তা।’
রোনালদো যোগ করেন, ‘তবে এই ব্যাপারগুলো মানিয়ে নেওয়ারই অংশ। সবই অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি। এই মুহূর্তগুলোয় বেঁচে থাকতেই পছন্দ করি, কারণ সবকিছু থেকেই শেখার আছে। এসব কঠিন ছিল অবশ্যই, তবে এমন নয় যে আগে কখনও দেখিনি।’
সৌদির ফুটবল খুব উপভোগ করছেন বলেও জানিয়েছেন রোনালদো, ‘সৌদিতে ফুটবল সমর্থকদের নিয়ে এখনও পর্যন্ত আমার অভিজ্ঞতা, তারা ফুটবলকে সত্যিই ভালোবাসে এবং এখানকার জীবন আমি ভালোবাসি এবং এখনও পর্যন্ত খুবই খুশি আছি।’
রোনালদো যোগ দিলেও আল নাসর অবশ্য লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। রানার্সআপ হয়েছে। দলকে কিছু জেতাতে না পারায় হতাশা আছে রোনালদোর মধ্যে, ‘আমার আশা একটু ভিন্ন ছিল। সত্যি বলতে, এই মৌসুমে কিছু একটা জিততে চেয়েছিলাম। তবে সবসময় তো আর চাওয়ার সঙ্গে পাওয়া মেলে না। কখনও কখনও আবেগ, ধারাবাহিকতা ও অধ্যবসায় দিয়ে সেরাটা অর্জন করে নিতে হয় ধীরে ধীরে।’
