গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বুধবার র্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সকালে র্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. ফজলুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. শহর আলী(৭৬) ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে।
র্যাব জানিয়েছে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মো. শহর আলী ও অন্যান্য রাজাকার সদস্য অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে সরাসরি জড়িত ছিলেন। একাত্তরের ২৩ মে রাতে শহর আলীসহ ১৫ থেকে ১৬ জন সশস্ত্র রাজাকার ও ৫ থেকে ৬ জন পাকিস্তানি আর্মি ফুলপুর থানার মৈশাকান্দা গ্রামের স্বাধীনতাকামী মানুষ ও এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ওপর নির্যাতন করে ১০ থেকে ১২টি বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।
এছাড়া ১৯৭১ সালের ৪ আগস্ট ফুলপুর থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজাকার রজব আলী ফকিরের নেতৃত্বে শহর আলীসহ ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র রাজাকার ফুলপুর থানার পূর্ব বাখাই ও পশ্চিম বাখাই এলাকার স্বাধীনতাকামী নিরীহ মানুষের বাড়িঘর লুটপাট এবং ৯ থেকে ১০ জনকে কংশ নদীর শর্চাপুর ঘাটে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
এরই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ মো. শহর আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার র্যাব-২ একটি দল গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।