৪১ প্রার্থীকে নোটিস দিল বিএনপি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩, ০৫:৫৮ এএম

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে দলের নির্দেশনা না মেনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ৪১ জন নেতা। তাদের মধ্যে মেয়র পদে ১, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৬ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থী হওয়া এসব নেতার মধ্যে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা, মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটির পদধারী নেতা রয়েছেন।

বিএনপির ওই ৪১ প্রার্থী ও তাদের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মী এখন ভোটের মাঠে সরব। ব্যানার-পোস্টার টানিয়ে, মাইকিং করে তারা নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এভাবে ভেস্তে যাওয়ায় সিলেট বিএনপিতে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এত নেতা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তা তারা আশা করেননি। যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা দুটি নির্বাচনে বিজয়ী বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দলের সিদ্ধান্ত মেনে এবার প্রার্থী হননি। অথচ নির্বাচনে তার জয়ের প্রবল সম্ভাবনা ছিল। একইভাবে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের ৪১ জন নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দেখে বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এ কারণে ‘দলদ্রোহী’ এসব নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিশ^াসঘাতক আখ্যায়িত করে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

এই ৪১ প্রার্থীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শাতে ইতিমধ্যে নোটিস দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। গত শনিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিস পৃথকভাবে সব প্রার্থীর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।

নোটিসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে মেয়র পদপ্রার্থী ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সালাহ উদ্দিন রিমন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম, ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রুকশানা বেগম শাহনাজ, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উসমান হারুন পনির, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে মেয়র পদের প্রার্থী ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সালাউদ্দিন রিমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জনগণের চাপে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি।’ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাচ্ছে না। কিন্তু সিলেটে যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে সিটি নির্বাচনে বিএনপির যেসব নেতা নির্বাচন করছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত