ইয়েভজানি প্রিগোজাইন এই সময়ের আলোচিত ব্যক্তিদের একজন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি যুদ্ধে সহযোগিতা করছেন। ভাড়াটে সেনাদের নিয়ে গঠিত তার প্রতিষ্ঠান ভাগনার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই সক্রিয়। কেন এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়লেন প্রিগোজাইন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
প্রভাবশালী ব্যক্তি
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই এক বছরের বেশি সময়ে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হচ্ছে। এই ব্যক্তি আর কেউ নন ইয়েভজানি প্রিগোজাইন। তিনি রাশিয়ার প্যারামিলিটারি সংস্থা ভাগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এই প্যারামিলিটারি বলতে কী বোঝায়? প্যারামিলিটারি হচ্ছে সেই সংস্থা যাদের গঠন, যুদ্ধকৌশল, প্রশিক্ষণ ও কর্মকাণ্ড পেশাগত সেনাবাহিনীর সঙ্গে মেলে কিন্তু তারা কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক সেনাবাহিনীর অংশ নয়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে রাশিয়া তার ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর ইউক্রেনে ভাগনার গ্রুপের কর্মকাণ্ড প্রথম দেখা যায়। একই বছর তারা ইউক্রেনের পূর্বে লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ সক্রিয় ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভাগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রিগোজাইন অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রধান অঞ্চলগুলোতে রুশ হামলার নেতৃত্বে আছেন এই ব্যক্তি। তিনি তার প্রতিষ্ঠান ভাগনারের জন্য রাশিয়ার জেল থেকে হাজার হাজার অপরাধীকে ছাড়িয়ে তাদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সেই অপরাধীদের অপরাধ কতটা গুরুতর সেটা তার বিবেচ্য বিষয় নয়। তারা তার জন্য ইউক্রেনে গিয়ে যুদ্ধ করতে রাজি কি না, সেটাই কেবল তার দেখার বিষয়। এভাবে গত কয়েক বছরে নিজের প্রতিষ্ঠান ভাড়াটে সেনা দিয়ে পূর্ণ করেছেন প্রিগোজাইন। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ইউক্রেনে হামলা ও এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে প্রিগোজাইনের বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে যেমন শোনা যায়, তেমনি আফ্রিকায় রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, এমনটাও অনেকে অভিযোগ করেন। খুব অল্প সময়ে প্রিগোজাইন এত প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন কীভাবে? কীভাবেই বা তিনি পুতিনের আস্থা অর্জনে সক্ষম হলেন?
শুরু যেভাবে
১৯৬১ সালের ১ জুন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে জন্মগ্রহণ করেন প্রিগোজাইন। জন্মের কয়েক বছর পর তিনি তার বাবাকে হারান। তার মা ও দাদি স্থানীয় এক হাসপাতালে কাজ করতেন। তারা তাকে ওই শহরেই বড় করেন। তার মা পরে আবার বিয়ে করেন। প্রিগোজাইনের বাবা ও সৎ-বাবা দুজনই ইহুদি ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় তিনি পেশাদার স্কিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। প্রিগোজাইনের সৎ-বাবা খেলার প্রশিক্ষক হওয়ায় ছেলেকে তিনি খেলার নানা ধরনের কৌশল শেখাতেন। অবশ্য খেলাধুলায় প্রিগোজাইন তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১৯৭৭ সালে তিনি স্নাতক শেষ করেন। ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন ১৮ বছর বয়সী প্রিগোজাইন। আড়াই বছরের কারাদণ্ড হয় তার। তাকে অবশ্য সে সময় জেল খাটতে হয়নি, তবে তিনি একই অপরাধ ফের করলে কারাভোগ করতে হবে, এমন নির্দেশ দেয় আদালত। ওই ঘটনার দুই বছর পর ১৯৮১ সালে তিনি আবার চুরি করেন এবং ধরা পড়েন। তার বিরুদ্ধে এবার কেবল চুরি নয়, এর পাশাপাশি ডাকাতি, প্রতারণা ও কিশোরদের অপরাধকর্মে যুক্ত করার অভিযোগও ওঠে। আদালতে প্রিগোজাইন ও তার সহযোগীরা ডাকাতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ১২ বছরের জেল হয় প্রিগোজাইনের। ১৯৮৮ সালে তাকে ক্ষমা করা হয় এবং ১৯৯০ সালে তিনি মুক্তি পান। সব মিলে ৯ বছর জেল খাটেন প্রিগোজাইন।
১৯৯০ সালে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মা ও সৎ-বাবার সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে হট ডগ বিক্রি শুরু করেন প্রিগোজাইন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তার বিক্রির হাত ভালো ছিল। মানুষজন তার কাছ থেকে হট ডগ কেনার জন্য ভিড় করত। বিক্রি এত বেশি হতো যে তার মা একদিকে রুবল গুনতেন, অন্যদিকে দেখতে না দেখতে রুবলের স্তূপ জমে যেত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রিগোজাইন হট ডগ বিক্রি বন্ধ করে ছোট ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মুদি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রথম সুপারশপ কনট্রাস্টের তিনি ছিলেন ম্যানজার ও ১৫ শতাংশ অংশীদার। ওই সুপারশপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার সাবেক সহপাঠী বরিস স্পেকতর। নব্বই দশকে প্রিগোজাইন জুয়া ব্যবসাতেও নিজেকে যুক্ত করেন। সহপাঠী স্পেকতর ও ইগর গরবেঙ্কো নামে আরেক রুশ প্রিগোজাইনকে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রথম ক্যাসিনো চালানোর দায়িত্ব দেন। এই তিন ব্যক্তি প্রিগোজাইন, স্পেকতর ও গরবেঙ্কো মিলে নব্বই দশকজুড়ে ক্যাসিনোর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। নির্মাণ শিল্প, মার্কেটিং রিসার্চ ও বৈদেশিক বাণিজ্যেও তারা বিনিয়োগ করেন।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ
রুশ পত্রিকা নোভোয়া গাজিয়াতার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১ সাল থেকে ক্যাসিনোসংক্রান্ত তদারকি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন পুতিন। ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে হয়তো প্রিগোজাইন ও পুতিনের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যেসব ছোট-বড় ব্যবসা করে প্রিগোজাইন ধনী হয়েছিলেন, তার একটি ছিল রেস্তোরাঁ ব্যবসা। নিউ আইল্যান্ড নামে তার একটি রেস্তোরাঁ ছিল। রেস্তোরাঁটি মূলত একটি নৌকার ওপর ছিল। রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নেভা নদীতে সেটি ভেসে বেড়াত। নিউ আইল্যান্ড পুতিনের এতটাই পছন্দের রেস্তোরাঁ ছিল যে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিদেশি অতিথিদের সেখানে নিয়ে যেতেন। নিউ আইল্যান্ডে পুতিন ও প্রিগোজাইনের প্রথম দেখা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক সাক্ষাৎকারে প্রিগোজাইন বলেছিলেন, ‘ভøাদিমির পুতিন দেখেছিলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিজের হাতে আপ্যায়ন করতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিরো মরির সঙ্গে তিনি যখন এসেছিলেন, তখন তার (পুতিনের) সঙ্গে কথা হয়।’ ২০০০ সালের এপ্রিলে সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়েছিলেন মরি। তখন পুতিন সবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হন। পুতিন ও প্রিগোজাইনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি। ওই ব্যবসায়ী অল্প সময়ের ভেতর পুতিনের এতটাই আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন যে ২০০৩ সালের জন্মদিন নিউ আইল্যান্ডেই পালন করেন এই রুশ প্রেসিডেন্ট। বছরখানেক পর প্রিগোজাইনের ক্যাটারিং কোম্পানি কনকর্ড ক্রেমলিনে খাবার সরবরাহের অনুমতি পায়। সে সময় থেকে প্রিগোজাইনের আরেক নাম ‘পুতিনের রাঁধুনি’। কেবল ক্রেমলিন নয়, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও সরকারি স্কুলগুলোতেও খাবার সরবরাহ করত প্রিগোজাইনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।
ভাগনার গ্রুপ
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের তোড়জোড় শুরু করলে প্রথম সবাই বুঝতে পারে, প্রিগোজাইন কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী নন। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর তিনি স্বীকার করেন, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বে দনবাস অঞ্চলে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সেনাবাহিনীর যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে সহায়তার জন্যই তিনি বেসরকারি মিলিটারি কোম্পানি ভাগনার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ক্রেমলিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এই বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সাল থেকে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাতে থাকে। অবশ্য ২০২২ সালে প্রিগোজাইনের ওই স্বীকারোক্তির আগেই রাশিয়ার মানুষ ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল, প্রিগোজাইন হয় ভাগনারের প্রতিষ্ঠাতা অথবা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। গত বছরের আগ পর্যন্ত ভাগনার গ্রুপ জনসম্মুখে বলে আসছিল, লেফট্যানেন্ট কর্নেল দিমিত্রি আতকিন এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন, প্রিগোজাইন নন। আতকিন আগে প্রিগোজাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। প্রিগোজাইনের ক্যাটারিং কোম্পানি কনকর্ডের এক মহাপরিচালকের নামও ছিল দিমিত্রি আতকিন। ২০১৮ সালে কনকর্ড ও প্রিগোজাইন উভয়ই ভাগনারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন। পরে কনকর্ড রুশ সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে, ভাগনার গ্রুপের অন্যতম নেতা দিমিত্রি আতকিনই প্রিগোজাইনের ক্যাটারিং কোম্পানি কনকর্ডের দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেলের একটি ক্ষেত্র দখলের লক্ষ্যে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত কুর্দি বাহিনীকে আক্রমণ করে ভাগনার। মার্কিন বাহিনী পাল্টা বিমান হামলা চালালে ভাগনারের বেশ কয়েকজন ভাড়াটে সেনা নিহত হয়। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মধ্য আফ্রিকার দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে তিন রুশ সাংবাদিক খুন হন। দেশটিতে ভাগনার গ্রুপের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছিলেন ওই তিন সাংবাদিক। তাদের মৃত্যুর পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহত তিন সাংবাদিক অনুমতি ছাড়া বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
ভাগনার গ্রুপ আফ্রিকাসহ অন্যান্য মহাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ক্রেমলিনের এজেন্ডাও বাস্তবায়ন করে। এসব এজেন্ডার মধ্যে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারকে সমর্থন ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ফরাসি প্রভাব মোকাবিলা উল্লেখযোগ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাড়াটে সেনাদল নৃশংসতার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হতে থাকে। ২০১৭ সালে সিরিয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন ও শিরেদের পর ওই ব্যক্তির দেহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভাগনার গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে তাদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে আরেক ব্যক্তিকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। ওই নিহত ব্যক্তি ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালে ভাগনার গ্রুপের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই সন্দেহে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার মৃত্যু সমর্থন করেছিলেন প্রিগোজাইন স্বয়ং। ওই ঘটনার পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ভাগনারকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করার আহ্বান জানালে তাদের হুমকি দেন প্রিগোজাইন।
যোগ্য ব্যক্তি
বছরের পর বছর ধরে ভাগনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রিগোজাইন। এমনকি কেউ ওই অভিযোগ তুললে তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা পর্যন্ত করেন। গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর সেপ্টেম্বরে প্রিগোজাইন জানান, ২০১৪ সালে ভাগনার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভাগনারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ক্রেমলিনের কেন প্রিগোজাইনের মতো মানুষের প্রয়োজন? রুশ সাংবাদিক ইলিয়া জেগুলেভের মতে, ‘অতি মাত্রায় সংবেদনশীল অভিযানের জন্য রুশ সরকারের বেসরকারি সেনাবাহিনী দরকার হয়। এতে করে তারা সহজেই ওই ধরনের অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করতে পারে। এছাড়া প্রিগোজাইন কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না করেন না। তিনি সুনামের জন্য লালায়িত নন আর এ ধরনের মানুষ পুতিনের পছন্দ। তিনি সুনাম আছে এমন ব্যক্তি তেমন একটা পছন্দ করেন না কারণ তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এদিক থেকে বিবেচনা করলে তার মনস্কামনা পূরণের জন্য প্রিগোজাইন সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।’ ২০১১ সালে বিরল এক সাক্ষাৎকারে প্রিগোজাইন বলেছিলেন, তিনি একবার শিশুদের জন্য রূপকথার বই লিখেছিলেন যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজাকে তার রাজ্য বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিল। ওই কেন্দ্রীয় চরিত্রকে পরে রাজা বীরের খেতাব দেয়। প্রেসিডেন্ট পুতিনের রাশিয়াকে ঘিরে রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রিগোজাইন হয়তো সহযোগিতা করছেন। তবে এও ঠিক, তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে রূপকথার সেই বীরের সঙ্গে যায় না।
