আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই বাকি আর মাত্র ছয় দিন। তার মধ্যে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন মাত্র চার দিন। তাই শেষ সময়ে মেয়র, কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলররা কড়া রোদের মধ্যেই নিজের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) গতকাল সোমবার দুপুরে শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট ফয়জুল হক ফয়েজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, অ্যাডভোকেট আনিস উদ্দিন শহিদ, অ্যাডভোকেট তপংকর চক্রবর্তী প্রমুখ। পরে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অমৃত লাল দে কলেজ মাঠ, ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উঠান বৈঠক করেন।
এ কর্মসূচি চলাকালে খোকন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন নগরবাসীকে। তিনি বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে বরিশালবাসী নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এখানকার মানুষের রয়েছে ট্যাক্স বিড়ম্বনা। এখানে রাস্তাঘাটের যে-রকম খারাপ অবস্থা, তেমনি রয়েছে পানি সরবরাহে সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বরিশালের মানুষের জন্য কাজ করতে পাঠিয়েছেন। সুযোগ পেলে সততার সঙ্গে বরিশাল নগরীকে পুনর্গঠিত করব। সিটি করপোরেশন চলবে স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে। এখানকার কোনো ওয়ার্ডবাসী ন্যূনতম সেবা পায় না। এখানকার ময়লা-আবর্জনা সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। কাঁচা মার্কেটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। দাতা সংস্থাগুলো এখানে কোনো সাহায্য দিচ্ছে না। মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তাদের মৌলিক সমস্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাকে প্রধানমন্ত্রী এখানে পাঠিয়েছেন একটি ভালো সমাজ গঠন করতে। আমি আশ্বস্ত করছি আমাকে আপনারা সব সময় পাবেন।
এ ছাড়া ডিজিটাল বাতি, রাতের নিরাপত্তা, ফ্রি চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ সুপেয় পানি, নারী-শিশু হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও নগর উন্নয়ন কমিটি গঠনসহ ৩০টি সেবা ও কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাপস বলেন, ‘এই ইশতেহার বাস্তবায়ন মোটেই কঠিন কিছু নয়। এখানে কিছু কিছু বিষয় আছে যা হয়তো দীর্ঘমেয়াদি। একজন মেয়র এটা শুরু করলে, তাকেই যে শেষ করতে হবে এমন তো কথা নয়, শুরু হলে তা শেষ হবেই।
গতকাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বরফকল ও কেডিসি এলাকায় গণসংযোগকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের বিসিসি মেয়র পদপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, সিটি করপোরেশনের একজন মেয়রের অন্যতম কর্তব্য হলো নগরীর সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমি বিজয়ী হলে সর্বস্তরের নাগরিকদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। এ ছাড়া নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বগুড়া রোড, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী গ্যারেজ, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ অ্যাভিনিউ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্যাস্টারবাইন এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ড লালার দিঘীরপাড় এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।
এবার বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২ লাখ ৭৬ হাজার ভোটার রয়েছেন। মেয়র পদে সাতজন। ৩০টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের বিপক্ষে লড়বেন ১৪২ জন প্রার্থী। এ ছাড়া সংরক্ষিত ১০ ওয়ার্ডে ৪২ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। আগামী ১২ জুন ১২৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
