জাপা প্রার্থীর নাম ঘোষণা রওশনের, নারাজ চুন্নু

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ০৫:৪৭ এএম

ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ আসনে জাপার প্রার্থী ঘোষণা করেছেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। কিন্তু সে প্রার্থীকে আমলে নিতে নারাজ পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাপা। তারা এই আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ শুরু করেছে। ফলে কে হবেন এই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাপার দলীয় প্রার্থী তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

গতকাল জাপার প্রার্থী হিসেবে জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের মুখপাত্র ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনূর রশিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন রওশন এরশাদ।

পরে রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু এমপি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কে করেছে, কী করেছেÑ সেটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এটা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই। আমলে নেওয়ার কোনো দরকারও নেই। জাতীয় পার্টিতে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী নির্বাচনের কাজ চলছে। ওদের (রওশনপন্থি জাপা) সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই মনোনয়ন ফরম দেওয়া শুরু করেছি। কারা কারা নির্বাচন করতে চান, সে ব্যাপারে একটা তালিকাও করেছি। তাদের ফরমও নিতে বলেছি। দু-একজন ফরম নিয়েছেন। যদি ভালো প্রার্থী পাই, তাহলে আমরা প্রার্থী দেব।’

রওশনপন্থি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, দলীয় প্রার্থী হিসেবে কাজী মামুনূর রশিদের ব্যাপারে কাদেরপন্থি জাপার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি এবং রওশনপন্থি জাপা ঘোষিত প্রার্থী দলের সম্মিলিত প্রার্থী না। তবে চেষ্টা চলছে তাকেই একক দলীয় প্রার্থী রাখার জন্য।

গতকাল রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তার দলীয় মনোনয়ন ফরমে স্বাক্ষর করেন রওশন এরশাদ। আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে কাজী মো. মামুনূর রশিদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা, যা অবিলম্বে দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকরের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

পরে গুলশানে বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিবের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজী মো. মামুনূর রশিদের হাতে মনোনয়নপত্রটি তুলে দেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাপার সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা ও গোলাম মসীহ। এ সময় সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাপার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার মনিরুজ্জামান টিটু।

জাপায় যদি দুই প্রার্থী হন, সে ক্ষেত্রে কে পাবেন দলীয় প্রতীক জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্ন বলেন, ‘বিগত সময়ে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের লাঙ্গল প্রতীক আমরাই দিয়েছি। আগামীতেও তাই হবে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যেসব দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত, সেসব দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে যে কমিটি হয়, সেই কমিটি এবং গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হয়। ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হওয়ার পর জি এম কাদেরের নেতৃত্বে কমিটির নাম ও গঠনতন্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেটার স্বীকৃতি দিয়েছে। পরে মহাসচিব বদল হলে সেটাও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে ও কমিশন সেটা গ্রহণ করেছে। সুতরাং পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মনোনীত প্রার্থী হবেন দলীয় প্রার্থী এবং তিনিই লাঙ্গল প্রতীক পাবেন।’ 

কাদেরপন্থি জাপার এক নেতা জানান, পার্টির ৯ সদস্যের দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি জি এম কাদের ও সদস্য সচিব মুজিবুল হক চুন্নু। এই দুজন ছাড়া লাঙ্গল প্রতীক দেওয়ার এখতিয়ার আর কারও নেই।

দলীয় প্রতীকের ব্যাপারে কাদেরপন্থি জাপার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে স্বীকার করেছেন রওশনপন্থি নেতারাও। এ ব্যাপারে রওশপন্থি এক নেতা বলেন, মূলত রংপুরের নির্বাচন থেকেই প্রতীক নিয়ে সংশয়ের শুরু। সেজন্য চেষ্টা চলছে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের ঘোষিত প্রার্থীও যেন কাজী মামুনূর রশিদই হন।

জাপার দুই অংশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কোনো নির্বাচনেই শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী নিয়ে জাপায় কোনো বিভেদ স্থায়ী হয়নি। শুরুতে সংশয় দেখা দিলেও সব নির্বাচনেই একক প্রার্থী দিতে পেরেছে দলটি।

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী হিসেবে দুই পক্ষেরই সমর্থন ছিল মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার ব্যাপারে। পরে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।

এরপর বিএনপির ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসনের ব্যাপারে দলীয় প্রার্থী নিয়ে কোনো বিভেদ ছিল না এবং সে নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ে জাপার দলীয় প্রার্থী জয়লাভ করেন। সর্বশেষ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে (গাসিক) নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়েছেন এম এম নিয়াজউদ্দিন। সামনে অনুষ্ঠেয় রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন, খুলনা সিটি করপোরেশনে (খুসিক) মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বরিশালে সিটি করপোরেশনে (বসিক) প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন তাপস ও সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) মো. নজরুল ইসলাম বাবুলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জি এম কাদেরপন্থি জাপা। সেখানে রওশনপন্থি জাপার কোনো বিরোধিতা ছিল না।

রওশনপন্থি এক নেতা বলেন, বিগত সময়ের মতো ঢাকা-১৭ আসনেও জাপা প্রার্থী দিলে শেষ পর্যন্ত একক দলীয় প্রার্থী দেবে, কোনো বিরোধ থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত