গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত মূল্যায়ন সভায় ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী ধারাবাহিক মূল্যায়ন সভার অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার গাছা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মূল্যায়ন সভায় হট্টগোলের ওই ঘটনা ঘটে। এ সময় দুপক্ষের কর্মীরা একে অন্যের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন। মূল্যায়ন সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, বেলা ১১টার দিকে গাছা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন মহির সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। প্রথমেই সভাপতি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে তিনজন করে বক্তব্য রাখার কথা বলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। সভায় বক্তব্য রাখার জন্য ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজের নাম ঘোষণা করেন গাছা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আদম আলী। এ সময় আজিজের প্রতিপক্ষের কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, নির্বাচনে আবদুল আজিজের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এ সময় আদম আলীর পক্ষের লোকজনও আবদুল আজিজকে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। এ নিয়ে সভায় ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের কর্মীরা একে অন্যের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকেন। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সভা কিছুক্ষণ চলার পর প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল উপস্থিত হন। অন্যদিকে ঢাকায় গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের জরুরি কাজ থাকায় আজমত উল্লা খান সভাস্থল ত্যাগ করেন। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সভা চলাকালে সভাকক্ষে দুপক্ষের মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি ও ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মূল্যায়ন সভায় নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গাছা থানায় নৌকার প্রার্থীর বড় পরাজয়ের জন্য একপক্ষ অন্যপক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। তারা তাদের পরস্পরের প্রতি সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করে। সভায় অভিযোগ করা হয়, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আমাদের আত্মোপলব্ধি করার সময় এসেছে। যেখানে আমরা চিন্তাও করতে পারিনি সেখানে গাছায় কীভাবে কী কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। গাছা এলাকার ওপর সবাই নির্ভর করেছে। কাউলতিয়াবাসীর ওপর নির্ভর কম করেছিলাম কিন্তু কাউলতিয়াবাসী আমাদের বিজয় এনে দিয়েছে। গাছা থানাবাসী আমাদের লজ্জা ফেলেছে। এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমাকে বিভিন্ন স্থানে কথা শুনতে হয়। সবাই গাছার কথা বলে, এর চেয়ে কষ্ট, এর চেয়ে ব্যথা আর হতে পারে না।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অনেকে মনে করেছে ২০১৮ সালে যেভাবে সিটি নির্বাচন হয়েছে, ২০২৩ সালেও একইভাবেই হয়ে যাবে। এটা ভেবে অনেকে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে মিটিং-মিছিল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কল্পনাতেও আসে না যে এখানে ফেল হতে পারে। ক্ষুদ্র কিছু মানুষ ঘরে ঘরে গিয়ে টাকা বিলিয়েছে। আমরা গণসংযোগে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম, কেন্দ্রীয় নেতারা এসেছেন, তাদের সময় দিচ্ছিলাম। আর সেই সুযোগে ক্ষুদ্র মানুষগুলো তারা ভেতরে ভেতরে গিয়ে টাকা বিলিয়ে পরাজয়টা করিয়েছে। এ বিষয়টা আমরা কেউ খেয়াল করিনি। কেন আমাদের ফল বিপর্যয় হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। এখানে কি আমাদের কোনো ব্যর্থতা, নাকি প্রার্থীর ব্যর্থতা, নাকি আপনাদের ব্যর্থতা, নাকি কোনো একটি শকুনের দল এসে আমাদের ব্যর্থ করে দিয়েছে। গাছায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে সময় থেকে যে ঐতিহ্য ছিল, সে ঐতিহ্যটা আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।’
