লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে দেশের সব জেলা শহরে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিএনপির ডাকা কর্মসূচির সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে গণ্ডগোল লাগাতেই এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সেই গণ্ডগোল করতে দেওয়া হবে না। আমরাও সতর্ক আছি। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ‘দুর্নীতির’ প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার দেশের সব জেলা শহরে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা গণ্ডগোল করার চেষ্টা করবে, সেই গণ্ডগোল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, গণ্ডগোল করার উদ্দেশ্যে দিয়েছে।
ড. হাছান বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি ঘোষণা করবে, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে জামাত এবং বিএনপির সহিংসতা করার লক্ষ্যেই কর্মসূচি সাজাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে একটি গন্ডগোল করে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করা, পানি ঘোলা করা, পানি ঘোলা করে সেখান থেকে মাছ শিকার করা। সেটি করার সুযোগ তারা পাবে না।’
এদিকে বিএনপির নেতিবাচক ধ্বংসাত্মক, মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতি, নির্বাচন প্রতিহত করা-বয়কট করার অপরাজনীতির কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে’ বলেও দাবি করেছেন হাছান মাহমুদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন মার্কিন ভিসানীতি ঘোষণার পর বিএনপির অন্তজর্¦ালা শুরু হয়েছে কারণ তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নাকচ করেছে এবং অন্য কোনো দেশের সমর্থনও পায়নি। ফলে তাদের পক্ষে আগের মতো ‘নির্বাচন প্রতিহত করব, বর্জন করব’ এগুলো বলার সুযোগ নেই।’ যে কারণে এখন ফখরুল সাহেব একটু হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন, বিভিন্ন কথা বলে আত্মতুষ্টি লাভের চেষ্টা করছেন।’
হাছান বলেন, ‘সব কথার শেষ কথা হচ্ছে তাদের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন প্রতিহত করার রাজনীতি তাদের পক্ষে আর করা সম্ভবপর নয়। তাই তাদের অনুরোধ জানাব, দেশে গ-গোল করার পরিকল্পনা না করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।’
